• পঞ্চায়েতে অনাস্থা ভোটের নির্দেশ হাই কোর্টের, স্বস্তিতে বিক্ষুব্ধরা
    বর্তমান | ২২ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: রঘুনাথগঞ্জ ২ ব্লকের একাধিক পঞ্চায়েতে অনাস্থা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। স্ক্রুটিনি ও দিনক্ষণ ঘোষণার পরেও নিরাপত্তার কারণ দর্শিয়ে আচমকা ভোটাভুটি বাতিল করায় দানা বেঁধেছে বিতর্ক। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন বড়োশিমূল পঞ্চায়েতের বিক্ষুব্ধ সদস্যরা। আর তাতেই মিলেছে আইনি স্বস্তি। আগামী বুধবারই ওই পঞ্চায়েতে অনাস্থা ভোট করানোর নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।

    অনাস্থা প্রসঙ্গে রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক তথা রাজ্যের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান বলেন,  স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করে। তাঁরা যদি মনে করে অন্য কাউকে আনলে এলাকায় আরও বেশি কাজ হবে তাহলে সেটা তাঁরাই ঠিক করবেন। এবিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। রঘুনাথগঞ্জ ২-এর বিডিও শুভঙ্কর দাস বলেন, এনিয়ে ফোনে কোনো মন্তব্য করব না।

    স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮ আসন বিশিষ্ট বড়োশিমূল গ্রামপঞ্চায়েতের বর্তমান বোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলেন তৃণমূলেরই ১০জন সদস্য। নিয়ম মেনে অনাস্থা প্রস্তাবপত্রের স্ক্রুটিনি এবং ভোটাভুটির দিনক্ষণও ঘোষণা হয়েছিল। গত সোমবার ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় নিরাপত্তার অভাবের কথা জানিয়ে ভোটাভুটি বাতিল হয়। প্রশাসনের এই ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়ে অনাস্থার পক্ষে থাকা সদস্যরা কলকাতা হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানায়, আগামী বুধবারই সেখানে অনাস্থার ভোটাভুটি করতে হবে। আদালতের এই নির্দেশে স্বস্তিতে বিক্ষুব্ধ শিবির।

    একই রকম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে ব্লকের গিরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতেও। ১৪ আসনের এই পঞ্চায়েতের প্রধান জুলমাত খাতুনের বিরুদ্ধে ৮ সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার সেখানে ভোটাভুটির দিন ধার্য থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়। বর্তমানে এই পঞ্চায়েত কার্যত অভিভাবকহীন। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রধান জুলমাত খাতুন দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ। এদিকে রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই তাঁর স্বামী তথা স্থানীয় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা মিঠুন শেখ এলাকাছাড়া। অন্যদিকে, একটি খুনের মামলায় নাম জড়ানোয় পুলিশি গ্রেপ্তারির ভয়ে গত এক বছর ধরে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন উপপ্রধানও। প্রধান ও উপপ্রধানের  অনুপস্থিতিতে পঞ্চায়েতের কাজ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে ১৪ জন সক্রিয় সদস্যের মধ্যে ৮ জন সদস্যই দ্রুত অনাস্থা চাইছেন। বড়োশিমূলের পথ অনুসরণ করে গিরিয়ার বিক্ষুব্ধ সদস্যরাও এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    বড়োশিমূল ও গিরিয়ার পাশাপাশি রঘুনাথগঞ্জ ২ ব্লকের তেঘড়ি গ্রামপঞ্চায়েতেও অনাস্থা নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। সেখানে প্রধান ফেরদৌসী খাতুনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার দুপুরেই এই পঞ্চায়েতের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য ভোটাভুটির দিন ধার্য হয়েছে। ওই দিন কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
  • Link to this news (বর্তমান)