রঘুনাথপুরে স্টকের বালি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে সাত হাজার টাকায়
বর্তমান | ২২ জুন ২০২৬
সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রাজ্যে পরিবর্তনের পরেই সরকার পুরুলিয়া জেলার বালির অবৈধ কারবার নিয়ে নড়েচড়ে বসছিল। জেলা প্রশাসনের আধিকারিক ও বিধায়কদের নিয়ে এই বিষয়ে কয়েকবার বৈঠকও হয়। একটি প্রশাসনিক বৈঠকে পুরুলিয়া জেলায় বালির দাম ২১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। অভিযোগ, বর্তমানে ২১০০ টাকায় বালি পাওয়া দূরস্ত, রঘুনাথপুর এলাকায় বালিই পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কোথাও স্টকের বালি থাকলে তার দাম তিন গুণ! অর্থাৎ এক ট্রাক্টর (১০০ সিএফটি) বালি নিতে গেলে সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। ফলে মহার্ঘ্য বালির জেরে নির্মাণকাজে যুক্ত কারিগর ও শ্রমিকরা বিপাকে পড়েছেন। রঘুনাথপুর এলাকায় আবাস যোজনার কাজ বন্ধ। এলাকার বাসিন্দারা আশাবাদী, রঘুনাথপুর বিধানসভা এলাকায় সরকারি ভাবে বৈধ ঘাট চালু হলেই বালির দাম কমবে। তবে এলাকায় বালি ঘাট কখন চালু হবে সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি রয়েছে। রঘুনাথপুরের বিধায়ক মামণি বাউরি বলেন, বালির সমস্যার বিষয়ে অনেকেই অভিযোগ করছেন। দ্রুত দামোদর নদ এলাকা তথা সাঁতুড়ি ও নিতুড়িয়ায় বৈধ বালির ঘাট চালুর জন্য জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে যে সব থানা এলাকার পাশ দিয়ে নদী গিয়েছে সেই এলাকার অবস্থা করুণ। সেখানে স্টকের বালি পর্যন্ত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই। ওইসব এলাকায় যে কোনো গাড়িতে বালি নিয়ে গেলেই পুলিশ গাড়ি সহ বালি বাজেয়াপ্ত করছে। ফলে ওই সব থানা এলাকার বাসিন্দারা স্টকের বালি নিতে পারছেন না।
সাঁতুড়ি, নিতুড়িয়ার কয়েকজন বাসিন্দার কথায়, থানা এলাকার পাশ দিয়ে দামোদর নদ গিয়েছে। কিন্তু বৈধ ঘাট চালু নেই। তৃণমূল সরকারের আমলে অন্য বৈধ ঘাট থেকে এলাকায় বালি এনে স্টক করা হতো। সেই স্টকের বালি প্রশাসনের মৌখিক অনুমতিতে রাতে ট্রাক্টর করে বিভিন্ন আবাস উপভোক্তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হত। সরকার বদলের পর সেই পরিবহণে রাশ টানা হয়েছে। ফলে ওইসব এলাকায় পুরোপুরি বালি অমিল। যদিও রঘুনাথপুর এলাকার কিছু জায়গায় স্টকের বালি দেওয়া হচ্ছে। তবে সেখানে ৭,০০০ থেকে ৭,৫০০ টাকা ট্রাক্টর পিছু দাম নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
হঠাৎ বালির এই দাম বৃদ্ধি কেন? কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, আগে তেলের দাম কম থাকায় পরিবহণ খরচ কম ছিল। বর্তমানে পরিবহণ খরচও বেড়েছে। পাশাপাশি ওভারলোড করে বালি আনা যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বালি বিক্রি করে নিজেদের লভ্যাংশ নিচ্ছেন। মার খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
বাড়ির কাজ করা মিস্ত্রিদের মধ্যে সঞ্জয় বাউরি, মধুসূদন তন্তুবায়রা বলেন, বালির জন্য অনেকে কাজ করাতে পারছেন না। ফলে আমাদের হাতেও কাজ নেই। সংসার চালাতে সমস্যা হচ্ছে।
আবাস উপভোক্তাদের মধ্যে রাজেশ মণ্ডল, সরস্বতী বাউরিরা বলেন, আবাস যোজনার বাড়ি করতে গেলে ইট, বালি, সিমেন্ট কিনতেই সব টাকা শেষ হয়ে যাবে। তাহলে বাড়ি তৈরি হবে কীভাবে? ফাইল চিত্র