• জেলা পরিষদের সভাধিপতিকে বাঁচাতে মরিয়া সাংসদ মহুয়া? বেফাঁস মন্তব্যে ক্ষুব্ধ দলেরই সদস্যরা
    বর্তমান | ২২ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: তাঁর ঘনিষ্ঠ জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদ বাঁচাতে কি মরিয়া মহুয়া মৈত্র? শনিবার রাতে কৃষ্ণনগর লোকসভার সাংসদের এক বক্তব্যের পর সেই প্রশ্ন উঠছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। কারণ নিজের দলের সদস্যদের উদ্দেশ্যেই বেফাঁস মন্তব্য করেছেন তিনি। মহুয়ার দাবি, নদীয়া জেলা পরিষদের অনাস্থা তুলে নেওয়ার জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে চেয়েছেন বিদ্রোহী সদস্যরা। যদিও নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করেননি. তিনি। তৃণমূলের জেলা সভাপতির এই মন্তব্য তৃণমূলের বিদ্রোহী সদস্যরা ভালোভাবে নিচ্ছেন না। জেলা পরিষদের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, এই অনাস্থা আটকাতে কেউ কেউ নাকি বিজেপির ‘শরণাপন্ন’ হওয়ার চেষ্টা করছেন। এই নিয়ে সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস বলেন, ‘এটা তৃণমূলের আভ্যন্তরীণ বিষয়। তোলাবাজের দল। জেলা পরিষদে এখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে তৃণমূল অনাস্থা এনেছে। আরজিকর কাণ্ডেও আমরা দেখেছিলাম মহিলাকে টাকা দিতে গিয়েছিল তৃণমূল।’

    জেলা পরিষদের সভাধিপতির ‘দুর্ব্যবহার’, ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ নিয়ে জেলা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। সভাধিপতি এবং সদস্যদের বনিবনার অভাবের জেরে, রাজ্যে পালাবদল হতেই তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন তৃণমূলের ২৭ সদস্য। সেই তালিকায় জেলা পরিষদের তাবড় তাবড় নেতা রয়েছেন। দলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, বিদ্রোহী শিবিরে ভিড়তে শুরু করেছেন অনাস্থায় স্বাক্ষর না করা সদস্যরাও। এমনকী সাংসদ মহুয়া মৈত্রের খাসতালুক করিমপুরের জেলা পরিষদ সদস্যরাও অনাস্থা প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন। জেলা পরিষদের এক সদস্যের কথায়, ‘সাংসদ তাঁর ঘনিষ্ঠ সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আটকাতে একাধিক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সে চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি।

    এরই মধ্যে শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে সম্মেলনে মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘নদীয়া জেলা পরিষদে অনাস্থা আনছে। জেলা পরিষদ ফেলতে দাও। এক পয়সা দেব না। অনাস্থা তুলে নেওয়ার জন্য ১০ লক্ষ টাকার প্রস্তাব দিচ্ছে এক একটা মেম্বার।’ মহুয়া মৈত্রের এই বক্তব্যের পর জেলা রাজনীতিতে কার্যত ঝড় বয়ে  গিয়েছে।

    জেলা পরিষদের বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ প্রণয়কুমার ঘোষ চৌধুরী বলেন, ‘উনি এই ধরনের কথা বলে দলকে ছোটো করছেন। দলের এই পরিস্থিতিতে এই ধরনের কথা উচিত না। কে বা কারা টাকা চেয়েছেন, সেটা উনি প্রমাণ করুন।’

    সভাধিপতি তরান্নুম সুলতানা মিরের সঙ্গে মহুয়া মৈত্রের ঘনিষ্ঠতা সর্বজনবিদিত। ২০২৩ সালে নদীয়া জেলা পরিষদের বোর্ড গঠনের পর থেকেই সাংসদের ছত্রছায়ায় রয়েছেন সভাধিপতি। যদিও প্রয়াত বিধায়ক নাসিরউদ্দিন আহমেদের হাত ধরেই নবদ্বীপ থেকে কালীগঞ্জে জেলা পরিষদ আসনে টিকিট পান। কিন্তু সভাধিপতির চেয়ারে বসতেই মহুয়া শিবিরে ভিড়ে যান তিনি। তারপর বিগত আড়াই বছর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। 

    অতীতে বহু ঘাত-প্রতিঘাত থেকে সভাধিপতিকে আগলে রাখতে দেখা গিয়েছিল মহুয়াকে। জেলা পরিষদের প্রায় ৩৫ জন তৃণমূল সদস্য সভাধিপতির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জানিয়েছিলেন রাজ্য নেতৃত্বের কাছে। টেন্ডার সংক্রান্ত বিষয়ে ‘নরেন মাস্টার’ নামে জনৈক ব্যক্তির কথাও উল্লেখ করেছিলেন তাঁরা। তখন সাংসদ মহুয়া মৈত্রই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)