• দাম নেই, বাড়িতে বোরো ধানের লাট আমন চাষের খরচ নিয়ে চিন্তায় চাষিরা
    বর্তমান | ২২ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বহরমপুর: সামনে আমন চাষ। তার জন্য টাকার প্রয়োজন। কিন্তু, ধানের দাম তলানিতে। সিংহভাগ চাষি এখনো বোরো চাষের ধান বিক্রি করতে পারেননি। চাষিদের ঘরে বস্তাবন্দি ধান ইঁদুরে খাচ্ছে। চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। চাষিদের দাবি, ১৭০০ টাকা কুইন্টাল পর্যন্ত  ধানের দাম উঠেছিল। সেই ধান এখন ১৬০০ টাকাতেও কেউ কিনতে চাইছে না। চাষিদের আরও দাবি, গত বছর এই সময় আমন চাষের আগে বোরো ধান ২১০০ টাকা প্রতি কুইন্টাল বিক্রি হয়েছে। 

    মুর্শিদাবাদ জেলায় বিভিন্ন মাঠে আমন চাষের জন্য বীজতলা তৈরি হয়ে গিয়েছে। বহু জায়গায় ধানের চারার উচ্চতা ৫-৬ ইঞ্চি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, টাকার অভাবে চাষিরা বীজতলা ভাঙতে পারছেন না। ধানের দাম কম থাকায় আড়তদাররাও তা কিনতে আগ্রহী নন। ফলে চাষিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। 

    বড়ঞা ব্লকের ধানচাষি নিরঞ্জন ঘোষ বলেন, বাড়িতে প্রায় ৩৫ কুইন্টাল ধান বস্তায় ভরে রাখা হয়েছে। উপযুক্ত জায়গা না থাকায় ইঁদুরে ধানের বস্তা কেটে  তছনছ করছে। ধানের রং খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বোরো চাষে যে খরচ হয়েছে ১৬০০ টাকা কুইন্টাল ধান বিক্রি করলে আসল টাকাও উঠবে না। এবার আমন চাষের জন্য টাকার প্রয়োজন। কী করব বুঝতে পারছি না। এবার বোরো ধান ওঠার শুরু থেকেই দাম যথেষ্ট কম ছিল। তবে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে ধানের দাম ১৭৫০ টাকা প্রতি কুইন্টাল উঠেছিল। ফের সেই দাম নামতে শুরু করে। নিমার বাসিন্দা ইন্তাহার শেখ বলেন, এবার বোরো ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। কিন্তু, ধানের দাম নেই। রাজ্যে সরকার বদলের পর আশা করেছিলাম চাষিরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবে। কিন্তু, উলটোটাই হচ্ছে। 

    বিকাশ মণ্ডল বলেন, গত বছর ঠিক এই সময় ২০০০-২১০০ টাকা কুইন্টাল ধান বিক্রি করেছি। এবারও দাম বাড়বে বলে আশায় ছিলাম। এখন দেখছি ধান কাটার পরই বিক্রি করে দিলে ভাল হত। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)