তৃণমূলের পদ ছাড়ার হিড়িক অব্যাহত, এবার ছেড়ে দিলেন মোশারফ হোসেন
বর্তমান | ২২ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি মাসেই পদ পেলেন। আর মাস শেষ হওয়ার আগেই তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়লেন বিধায়ক মোশারফ হোসেন। রবিবার তিনি জানিয়েছেন, দল যে পদ দিয়েছিল সেই পদে থাকতে আমি ইচ্ছুক নই। মায়ের অসুস্থতা এবং পারিবারিক কারণেই পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দলকে সেটা জানিয়েও দিয়েছি।
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলের সমস্ত কমিটি ভেঙে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর চলতি মাস থেকে নতুন কমিটি এবং বিভিন্ন পদে তৃণমূল নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই সূত্রেই দায়িত্ব পেয়েছিলেন ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন। চলতি মাসেই মোশারফকে তৃণমূলের সংখ্যালঘু শাখার রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে তিনি পারছেন না বলে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছেন। ঘটনাচক্রে তৃণমূলকে বিঁধে মোশারফের খোঁচা, আমাকে যে পদ দেওয়া হয়েছিল, সেটা তৃণমূলের তরফে কোনো চিঠি দিয়ে জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়াতেই জানতে পারি। তাই আমার পদ ছাড়ার বিষয়টি মৌখিকভাবেই দলকে জানিয়ে দিয়েছি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে থাকা তৃণমূলের সঙ্গ ত্যাগ করে মোশারফ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে থাকা বিদ্রোহী শিবিরে শামিল হতে চলেছেন বলেই খবর। ঋতব্রতর সঙ্গে মোশারফের একপ্রস্থ কথা হয়েছে বলেই খবর।
তবে এটা দেখা গিয়েছে, চলতি জুন মাসে তৃণমূলের পক্ষ থেকে যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, এমন অনেকেই পদ ছেড়ে দিয়েছেন। যেমন, তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য করা হয়েছিল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। তিনি পদ ছেড়ে দিয়েছেন। পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি করা হয়েছিল নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে। পদ ছেড়েছেন তিনিও। এছাড়া প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকারকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। তিনি দল ছেড়ে দিয়েছেন।
বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের খোঁচা, তৃণমূলের তরফে যাঁদেরকে নতুন পদ দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের বিষয়ে আর একটু খোঁজ-খবর নেওয়া হোক। তৃণমূল যাঁদের পদ দিচ্ছে, তাঁরাই ছেড়ে দিচ্ছেন! তৃণমূলের জেলা নেতাদের ৯০-৯৫ শতাংশ জন আমার সঙ্গে যোগাযোগে আছেন।