সোহম কর, কলকাতা; কলম তরবারির চেয়েও শক্তিশালী—এমন কথা জ্ঞানী মানুষজন বলে থাকেন। আসলে ‘কলমের জোর’ বলতে বোঝায়, সেই কলম নিঃসৃত লেখার প্রভাব। কিন্তু ২০২৬ সালে এক ধরনের কলম ‘বাজারে’ এসেছে, যাকে দেখতে অনেকটা গ্রেনেডের মতো। কলম দেখেই কেমন যেন ‘ভয় ভয়’ লাগে! পকেট থেকে এমন একখানা কলম বের হলেই পাশের যে কেউ চোখ বড়ো বড়ো করে দেখছেন। তবে ঘটনা এখানেই থেমে নেই। সামাজিক মাধ্যমে এই কলম নিয়ে ‘গুজব’ ছড়াতে শুরু করেছে। বিভিন্ন সংস্থা ‘ফ্যাক্ট চেক’ করে সেই গুজব অবশ্য উড়িয়েও দিয়েছে।
কিন্তু তাই বলে, ‘গুজব’ কি আর সহজে উবে যায়? সামাজিক মাধ্যমে রক্তাক্ত মানুষের ছবি দিয়ে লেখালেখি চলছে, ‘রাস্তাঘাটে এই ধরনের কলম পড়ে থাকলে কেউ তুলবেন না।’ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই কলম বিক্রিও হচ্ছে। দাম দু’ থেকে তিন হাজার টাকার কাছাকাছি। অনলাইন মার্কেটে নাম ‘গ্রেনেড ক্লিক পেন কিটস’।
এই কলমের মাধ্যমে কি নাশকতার ছক করা যায়? কামান বিশেষজ্ঞ অমিতাভ কারকুন বলছিলেন, ‘এত ছোটো জিনিস দিয়ে প্রাণঘাতী হামলা করা সম্ভব নয় বলেই মনে হয়। ডিটোনেটারে আঘাত করার জন্য একটা পিন লাগে। সেই পিন গিয়ে আঘাত করলে তবেই সেটি ফাটে। সেই মেকানিজম তৈরি করতে হলে মাঝখানে অনেকটা জায়গা লাগে। সেটা এই কলমে হওয়া সম্ভব নয়। কারণ, এখানে ওই জায়গায় রিফিল থাকে।’ ফলে, এই কলমে ভয়ানক কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, দেশে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশও নাকি এই কলম নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। যদিও এর মধ্যে নাশকতার এমন কিছু জিনিস পাওয়া যায়নি। সাইবার পিস নামের একটি সংস্থা ‘ফ্যাক্ট চেক’ করে জানিয়েছে, এই কলমের উপর ‘বিপজ্জনক’ তকমা দেওয়া একেবারেই ভুল।
কলকাতার বাসিন্দাদের কি এই নিয়ে ভয় পাওয়া উচিত? কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক রসিকতার সুরে বলছিলেন, ‘এখন তো টিফিন বক্স বোমাও পাওয়া যায়। তাই বলে কি টিফিন বক্স ব্যবহার করা ছেড়ে দেবে লোকে?’ কলকাতা শহরে যাঁরা কলম নিয়ে চর্চা করেন, তাঁরাও এই ধরনের কলম আগে দেখেননি। ধর্মতলার ‘পেন হাসপাতাল’-এ এই পেনের ছবি দেখাতে বলা হল, ‘হবে হয়তো বিদেশি কোনো পেন। এখানে কখনও দেখিনি।’