দুর্গাপুজোয় দক্ষিণপাড়ায় লোক টানতে অপরিকল্পিত নয়া ব্রিজ! ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
বর্তমান | ২২ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কয়েকশো মিটারের মধ্যে পর পর দু’টি ব্রিজ। তার মাঝে ফের অপরিকল্পিতভাবে খালের উপর পিলার তুলে তৈরি করা হচ্ছিল নতুন একটি সেতু। অভিযোগ, দক্ষিণ দমদম পুরসভার উদ্যোগে এই সেতু তৈরি করা হচ্ছিল বাগুইআটির দক্ষিণপাড়া দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলে যাতায়াতের সুবিধার জন্য। এনিয়ে বিধাননগর পুরসভা এলাকার বাসিন্দারা সেচ ও পরিবেশ দপ্তর এবং বিধাননগর পুরনিগমে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তবে কেউ কর্ণপাত করেনি। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকে এখনও পর্যন্ত কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে এই বর্ষায় খালের উপর তৈরি পিলারে আবর্জনা জমে নিকাশির পথ অবরুদ্ধ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকার বাসিন্দারা। অবিলম্বে পিলার সরানোর দাবি তুলে খাল আগের অবস্থায় ফেরানোর দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা।
দমদম ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে অর্জুনপুর হয়ে কেষ্টপুরে বাগজোলা খালে গিয়ে পড়েছে ক্যান্টনমেন্ট খাল। ব্রিটিশরা এই খাল কাটিয়েছিল। এটি অর্জুনপুর খাল নামেও পরিচিত। আগে নৌকা চলাচল করত। কিন্তু দশকের পর দশক খালপাড় ও খালের কিছু অংশ দখল হতে থাকে। ফলে এককালের প্রশস্ত খাল এখন সংকীর্ণ। কয়েক মাস আগে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া এলাকায় খালপাড়ে নতুন ব্রিজ তৈরির কাজ হঠাৎ শুরু হয়। খালের মধ্যে একাধিক পিলার তোলা হয়। তা দেখে চমকে যান বাসিন্দারা। ওই নির্মীয়মাণ ব্রিজের কয়েকশো মিটার দূরে দু’দিকে বাগুইআটি-শ্যামনগর ও বাগুইআটি-সাতগাছি ব্রিজ আছে। অভিযোগ, তা সত্ত্বেও নতুন করে আর একটি তৈরি হচ্ছিল দক্ষিণপাড়ার দুর্গাপুজোয় যাতে মানুষ সহজে যেতে পারে, তার জন্য।
খোঁজ নিয়ে এলাকার বাসিন্দারা জানতে পারেন ব্রিজ তৈরি করছে দক্ষিণ দমদম পুরসভা। এরপরই মানুষ নিকাশির পথ অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় সেচ, পরিবেশ দপ্তর ও বিধাননগর পুরসভাকে চিঠি দেন। তাপস ভৌমিক নামে এক অভিযোগকারী বলেন, ‘ভোটের আগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ হচ্ছিল। আমাদের কোনো অভিযোগে কর্ণপাত করা হয়নি। ভোটের ফলাফলের পর কাজ এখন বন্ধ।’ তিনি সহ বাকি বাসিন্দাদের বক্তব্য, ‘খালের মধ্যে পিলার দাঁড়িয়ে আছে। জল নিকাশির পথ অবরুদ্ধ হচ্ছে। পাশের দু’টি ব্রিজ তৈরি করতে খালে পিলার করা হয়নি। অথচ সরকারি অনুমোদন ছাড়া এখানে খালের মধ্যে পিলার তৈরি হচ্ছে। দমদম ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকা, রাজারহাট, বিধাননগরের বিস্তীর্ণ এলাকার জল এই খাল দিয়ে বের হয়। এটি অবরুদ্ধ হলে তীব্র সমস্যায় পড়তে হবে কয়েক লক্ষ মানুষকে। এর কয়েকশো মিটারের মধ্যেই দু’টি ব্রিজ আছে। আবার নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে আর একটি।’ তাঁরা অবিলম্বে খালকে আগের অবস্থায় ফেরানোর দাবি তুলেছেন। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার এবং দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান কস্তুরী চৌধুরীর বক্তব্য অবশ্য অন্য। তিনি বলেন, ‘এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতের স্বার্থে পুরসভা ওই ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু করেছিল। তবে ভোটের পর কাজ থমকে রয়েছে। কেউ অভিযোগ করেছে বলে জানি না। অভিযোগ হলে আইন মেনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’