ফের প্রশ্ন ফাঁস হবে না তো নিটের? পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে আলোচনা অভিভাবকদের
বর্তমান | ২২ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুনরায় অনুষ্ঠিত হল স্নাতক স্তরের চিকিত্সাবিদ্যায় ভরতি হওয়ার প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট)। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে যখন অবস্থান চলছে, সেই আবহেই রবিবার দেশজুড়ে নিট পরীক্ষা হল। নিটের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে নিয়ামক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) বারবার জর্জরিত হয়েছে। ৩ মে’র পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায়। সেই পরীক্ষাই হল এদিন। তবে এবারও পরীক্ষার্থী থেকে অভিভাবক, কেউই খুব একটা ভরসা রাখতে পারছেন না নিয়ামক সংস্থার উপর। তাঁদের অভিযোগ, এনটিএ’র নেওয়া অন্যান্য পরীক্ষার ক্ষেত্রেও তো প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। তাহলে ভরসা করব কাকে? তবে পুলিশের উপর ভরসা রেখেছিলেন এক নিট পরীক্ষার্থী। ওই পরীক্ষার্থীকে গ্রিন করিডর করে হাসপাতাল থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেয় পুলিশ। দুর্ঘটনার কারণে আহত হয়ে নাগেরবাজারের একটি হাসপাতালে ভরতি ছিলেন ওই পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা দিতে চেয়েছিলেন তিনি। ঢাকুরিয়া বিনোদিনী গার্লস স্কুলে তাঁর সিট পড়েছিল। বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট ও কলকাতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগ দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ প্রবল বৃষ্টির মধ্যে তাঁকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এই পরীক্ষা কেন্দ্রটি কলকাতা পুলিশের সাউথ-ইস্ট ট্রাফিক গার্ডেন অধীনস্থ। দক্ষিণ কলকাতায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও যাদবপুর বিদ্যাপীঠে পরীক্ষাকেন্দ্র হয়েছিল। দুপুর ২টো থেকে পরীক্ষা শুরু হলেও নিয়ম মেনে অনেক আগেই পরীক্ষাকেন্দ্রে ভিড় করেছিলেন পরীক্ষার্থীরা। অভিভাবকদের বক্তব্য, গতবারের তুলনায় এবার পুলিশি নিরাপত্তা অনেক বেশি ছিল। হেয়ার স্কুলের বাইরে অভিভাবকরা বলেন, কাগজপত্র নেওয়ার জন্য কোনো স্বচ্ছ ব্যাগও ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। ফলে, বৃষ্টির মধ্যেই সেগুলি হলে ঢুকতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের। যাদবপুর বিদ্যাপীঠের বাইরে অভিভাবকদের বক্তব্য, এই কেন্দ্রে সময়ের পর এসে এক পরীক্ষার্থী প্রবেশ করতে চাইলে তাঁকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরীক্ষা না দিয়েই ফিরতে হয়েছে তাঁকে। ঠাকুরপুকুরের বাসিন্দা ভূতনাথ পাত্র যাদবপুরে এসেছিলেন ছেলেকে নিয়ে। বলছিলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের মন খারাপ। এই পরীক্ষাও যে সঠিক পথে হবে, তার কি কোনো নিশ্চয়তা রয়েছে?’ পেশায় সাইকেল মেকানিক বৈকুণ্ঠ মণ্ডল এসেছিলেন ছেলেকে নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, ‘এখন তো ছুটি পাওয়ার কথা ছেলেদের। কিন্তু সেটা আর হল কই? একই পরীক্ষা দ্বিতীয়বার দিলে আর সেই মনোযোগ থাকে না।’ সোদপুরের বাসিন্দা দুলাল গঙ্গোপাধ্যায়ের মেয়ে পরীক্ষায় বসেছেন এদিন। তিনি বলছিলেন, ‘অনেক পড়ুয়া এই প্রশ্ন ফাঁস মেনে নিতে না পেরে আত্মঘাতী হয়েছেন। এসব মেনে নেওয়া যায় না। আশা করি, আগামী দিনে নিয়ামক সংস্থা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে সঠিক আচরণ করবে। পড়ুয়াদের যেন আর ক্ষতি না হয়।’ একই কথা বলছিলেন পেশায় স্কুল শিক্ষিকা তনুশ্রী দে। বলছিলেন, ‘পড়ুয়ারা তো একটা ছন্দে থাকেন, পরীক্ষা দেওয়ার পর তা বাতিল হলে মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হয়ে যায়। তাছাড়া এত কিছুর পর আমরা সেভাবে বিশ্বাসও রাখতে পারছি না যে, এবার সবটা সুষ্ঠুভাবে হবে।’