• তরুণকে খুন করে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ, তদন্তে সোনারপুর জিআরপি
    বর্তমান | ২২ জুন ২০২৬
  • শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: পাওনা টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে নানাভাবে ঘোরানো হচ্ছিল। শেষমেশ ওই সহকর্মীকে বেড়াতে যাওয়ার নাম করে ডেকে এনে খুন ও একইসঙ্গে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে কারখানার কর্মীদের বিরুদ্ধে। পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা দেবাশিস দাসকে (২৪) মৃত অবস্থায় সোনারপুর স্টেশনের কাছে রেললাইন থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে খুন ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ করেছে মৃতের পরিবার। সোনারপুর জিআরপি ওই অভিযোগের ভিত্তিতে খুন, তথ্যপ্রমাণ লোপাট, ষড়যন্ত্র সহ একাধিক ধারায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে।

    রেল পুলিশ সূত্রে খবর, পূর্ব মেদিনীপুরের মরিশদা থানা এলাকার বাসিন্দা দেবাশিস ২০২০ সালে বারুইপুর এলাকায় একটি ছাতা কারখানায় কর্মী হিসাবে কাজে যোগ দেন। সেখানেই কাজ করত স্থানীয় বাসিন্দা কৌস্তুভ বাগ, শংকর বাগ, সৌরভ পাত্র সহ আরও অনেকেই। একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব জমে ওঠে। দেবাশিসের মামা শম্ভুরাম শ্যামল জানিয়েছেন,  তাঁদের গ্রামেরই বাসিন্দা সুভাষ ও কেশব ওই কারখানায় কাজ করত এবং প্রায়ই ভাগ্নের কাছ থেকে টাকা ধার নিত। সেই টাকা পরিশোধ করছিল না তারা। দেবাশিস টাকা চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁকে ঘোরানো হত। একলপ্তে টাকা পরিশোধ করে দেওয়ার কথা বলে আরও টাকা ধার নিয়েছিল ওই দুই যুবক। সব মিলিয়ে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় তিন লক্ষ টাকা। তাঁর পরিবার দাবি করেছে, ওই টাকা চাওয়ায় কেশব ও সুভাষের সঙ্গে ঝামেলা হয় দেবাশিসের। এরপরই পাওনাদার যুবক বলেন, টাকা শোধ না করলে থানায় অভিযোগ জানাবেন।

    তাঁর মামা জানিয়েছেন, ৮ মার্চ কারখানার দুই শ্রমিক দেবাশিসকে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে। তিনি যেতে রাজি হলে তিনজন একটি টোটো করে মল্লিকপুর আসেন। সেখান থেকে ট্রেন ধরে আসেন সোনারপুর। ওইদিন রাতে বাড়িতে ফোন করে রেল পুলিশ জানায়, রেললাইন থেকে দেবাশিসের দেহ মিলেছে। পরিবারের লোকজন দেহটি শনাক্ত করলে জিআরপি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে।

    কিন্তু দেবাশিসের মৃত্যু নিয়ে প্রথম থেকেই সংশয়ে ছিল তাঁর পরিবার। তাঁদের দাবি, তাঁর মাথায় আঘাত ছিল। ওইদিন যে দুই যুবকের সঙ্গে বেরিয়েছিলেন দেবাশিস, তাদের সঙ্গেও কথা বলেন পরিবারের লোকজন। তারা জানায়, প্রাপ্য টাকা চাওয়ায় ৮ মার্চ দেবাশিসের সঙ্গে ঝামেলা হয় সুভাষ, রঞ্জিত, কৌস্তুভ সহ পাঁচজনের। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় গত ৫ জুন অভিযোগ দায়ের হয় সোনারপুর জিআরপিতে। তাতে বলা হয়, ট্রেনের সামনে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে দেবাশিসকে। এরপর চলে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা। তার ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে জিআরপি। তারা অভিযুক্তদের ওইদিনের টাওয়ার লোকেশন জানার চেষ্টা করছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের  জন্য ডেকে পাঠানো হচ্ছে বলে খবর।
  • Link to this news (বর্তমান)