• রাত জেগেই রেড রোডে হাজির, মোদির সঙ্গে যোগচর্চায় রাজ্যবাসী
    বর্তমান | ২২ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে রবিবার থাকল মেগা শোয়ের সাক্ষী থাকল রেড রোড। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাত জেগে দূর দূরান্ত থেকে সফর করে হাজার হাজার যোগপ্রেমী এসে পৌঁছান কলকাতায়। যোগ দেন যোগ দিবসের উৎসবে। রাস্তার উপর পাতা মাটি রঙের কার্পেটে উপর নিজ নিজ রঙিন ম্যাট পেতে ভোর ৫টা থেকে অপেক্ষা করেন যোগপ্রেমীরা। উৎসাহী মানুষের ঢল এতটাই ছিল যে রেড রোড ছাড়িয়ে ক্যাসোরিনা রোড এবং খিদিরপুর রোডের কিছুটাও দখলে চলে যায় যোগপ্রেমীদের। সকাল সাড়ে ৬টার আগেই রেড রোডে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সঙ্গে কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁদের ভাষণের পরেই সুসজ্জিত রেড রোডে শুরু হয় যোগা প্রোটোকল। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে পাওয়া যায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গকে সঠিকভাবে যোগাসন করার উপদেশ দিতে। 

    কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীতে প্রায় ৮টা পর্যন্ত চলে যোগ অভ্যাস। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি সরকারের মন্ত্রী, বিধায়ক থেকে শুরু করে পদস্থ কর্তা ব্যক্তিরা। এদিন আয়ুষ আহারও ছিল নজর কাড়া। প্যাকেটে ডাবের জল, কলা প্রভৃতির সঙ্গে স্থান পেয়েছিল ঝালমুড়িও। বাংলায় নির্বাচনি প্রচারে এসে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন মোদি। তারপর থেকেই ডবল ইঞ্জিন সরকার এবং বিজেপির নানা অনুষ্ঠানে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর চল শুরু হয়েছে। রেড রোড এবং তার সংলগ্ন এলাকা সাজিয়ে তোলা হয়েছিল যোগ দিবসের ফ্ল্যাগ, পোস্টার, ব্যানারে। ছিল মোদির বিরাট মাপের ব্যানারও। অনুষ্ঠান শেষে তার সামনে দাঁড়িয়ে একাধিক বিধায়ক থেকে সাধারণ মানুষকে সেলফি তুলতেও দেখা গিয়েছে। 

    তবে এদিন মোদির ভাষণের পরতে পরতে ছিল মানুষকে যোগমুখী করে তোলার জোর চেষ্টা। যোগের গুণাগুণ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিয়মিত যোগ অভ্যাস করলে বার্ধক্যেও সুস্থ থাকা যায়। বয়সকালেও কর্মক্ষমতা ধরে রাখা যায়। ৩০ বছর বয়সে আমরা যতটা প্রাণবন্ত ছিলাম তার থেকে বেশি প্রাণবন্ত ৫০ বছর বয়সে থাকতে হবে। এটাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।’ তিনি আরো বলেন, ‘আজ ১৯২টি দেশে সাড়ম্বরে উৎযাপিত হচ্ছে যোগ দিবস। যোগকে ঘিরে দেশজুড়ে উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে। যোগ শুধু শারীরিক শ্রম নয়, যোগ সকলকে জুড়ে দেয়। তাঁদের মধ্যে একতা সৃষ্টি করে।’ ২১ জুনকে বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো উৎসবের দিন বলে উল্লেখসহ মোদির আহ্বান, ‘বিশ্বের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্যও এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে শুধুমাত্র একদিন নয়, যোগ অভ্যাস করতে হবে সারা বছর।’

    তবে রাজ্যের পূর্বতন জমানায় যোগ দিবসের সঙ্গে বাংলার মানুষ যুক্ত না-হওয়া নিয়েও ক্ষোভের সুর উঠে এসেছে শুভেন্দু গলায়। তিনি বলেন, ‘রাজ্য সরকার এতদিন যুক্ত ছিল না। জনতা জনার্দন ঐতিহাসিক শিক্ষা নিয়েছেন। ফলে এরাজ্যের মানুষও এখন যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এর জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে শত কোটি প্রণাম জানাই।’ তিনি জানান, রেকর্ড ২.৫৭ লক্ষ মানুষ যোগ দিবসের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। আজকে পাহাড় থেকে সাগর—সমস্ত জায়গায় কোটির বেশি মনসুন যোগ দিবসের অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)