ডিএ’র আশা নিয়ে আজ রাজ্য বাজেট, শুভেন্দুকে ৬০ হাজার কোটি সাহায্যের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
বর্তমান | ২২ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ, সোমবার বাংলার ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সাধারণ মানুষ থেকে সরকারি কর্মচারী—সবার নজর সেদিকেই। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আশা, এই বাজেটেই তাঁদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার পথে হাঁটতে শুরু করবে নতুন সরকার। কত শতাংশ ডিএ মিলতে পারে, নানা জল্পনা চলছে কর্মচারী মহলে। আজ তাঁরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবেন ডিএ সংক্রান্ত ঘোষণা শোনার জন্যই। সূত্রের খবর, বাজেটে উন্নয়নের বার্তা দিতে কেন্দ্রীয় প্রকল্পই বর্তমান সরকারের প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে। যেমন জল জীবন মিশন। কেন্দ্রের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে রাজ্যের সঙ্গে ৩৯ হাজার কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে কেন্দ্রের। এর মধ্যে রাজ্যে প্রাথমিকভাবে ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প লাগু হবে বলে জানা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাকে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘৬০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
বিগত কয়েকটি বাজেটে তিন থেকে চার শতাংশ ডিএ দেওয়ার ঘোষণা করেও সরকারি কর্মচারীদের মন জিততে ব্যর্থ হয় পূর্বতন সরকার। বিধানসভা ভোটেও তার স্পষ্ট প্রভাব পড়ে। বিজেপির অন্যতম নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিই ছিল বকেয়া সমস্ত ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার পর লাগু হবে সপ্তম বেতন কমিশন। সেই প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ হয়, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প এবং ডিএ বাবদ বিপুল খরচ সামলে বিভিন্ন দপ্তরে তৈরি হওয়া রাশি রাশি শূন্যপদ পূরণের দিশা বাজেটে থাকতে পারে বলে আশা করছে প্রশাসনিক মহল। দপ্তরগুলির শূন্যপদের তালিকা তৈরি করে পাঠানোর শেষ তারিখ ছিল ১২ জুন। সূত্রের খবর, সেই সময়ের মধ্যে ওই কাজ শেষ না হলেও গত সপ্তাহের শেষের দিকে সম্মিলিত তালিকা এসেছে অর্থদপ্তরের হাতে। শূন্যপদের মোট সংখ্যা ২ লক্ষ ছাপিয়ে গিয়েছে বলেই খবর। এই অবস্থায় সংশোধিত নিয়োগ নীতি এনে শূন্যপদ পূরণের কথা ঘোষণা হতে পারে। পাশাপাশি, বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নয়া ‘ইনসেনটিভ পলিসি’ ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এছাড়া প্রশাসনের অন্দরে জোর চর্চা চলছে, উত্তরবঙ্গের জন্য আলাদা প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারে নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকার।
বাংলায় এখন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। তাই কেন্দ্রের স্পেশাল প্যাকেজ পাওয়া নিয়েও জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। দিল্লিতে স্বপন দাশগুপ্তের সঙ্গে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বৈঠক সেই জল্পনা আরও উসকে দেয়। রাজ্য সরকারের ঘাড়ে রয়েছে আট লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা। সেই সঙ্গে আছে অন্নপূর্ণা যোজনা সহ সামাজিক প্রকল্প এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্যের অংশ বাবদ খরচ। এত কিছু সামলে বাংলার ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে রাজ্যের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির কোন কোন পথ স্বপনবাবু দেখান, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক মহল। সূত্রের খবর, বাজেট অধিবেশন নিয়ে দলের বিধায়কদের বার্তা পাঠিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নয়া সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে রাজ্যের জন্য কী কী আনতে পারে, নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও জানিয়েছেন, সদ্য একটি দল ক্ষমতায় এসেছে। এটা তাদের প্রথম বাজেট। আমরা তাদের সময় দেব। নজর রাখব।