দুই নাবালিকাকে নদীতে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠল রাজস্থানের এক বাসিন্দার বিরুদ্ধে। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ‘পরিবারের সম্মানরক্ষায়’ অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর মেয়েদের নদীতে ছুড়ে ফেলে দেন বলে অভিযোগ। প্রেম ঘটিত কারণেই এই ‘অনার কিলিং’ (honour killing)-র ঘটনা বলে সন্দেহ পুলিশের। রাজস্থানের ঢোলপুর জেলার এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনা ঘটেছে ঢোলপুর (Dholpur) জেলার সদর থানা এলাকার ফারকপুরা গ্রামে। ভরত লোধার দুই নাবালিকা কন্যা সন্দেহজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পরিবারের সদস্যরা। মেয়েদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে আলোচনার জন্য গ্রামসভা ডাকার পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
জানা গিয়েছে, ওই সভায়, তাঁর দুই মেয়ে চম্বল নদীতে পড়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন ভরত লোধা। দুই বোনের একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয় গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে। ভরত লোধাকেও সন্দেহ করেন তাঁরা। এর পরেই পুলিশকে বিষয়টি জানান গ্রামবাসীরা।
শনিবার এই খবর পাওয়ার পরেই ওই এলাকায় যান ঢোলপুরের পুলিশ সুপার বিকাশ সাঙ্গওয়ান (Vikas Sangwan)-সহ অন্য পুলিশ আধিকারিকরা। এলাকায় গিয়ে তদন্ত শুরু করেন তাঁরা। সেই সঙ্গে তল্লাশি চালানো হয় চম্বল নদীতেও (River Chambal)। রবিবারও ওই নদীতে চলে তল্লাশি অভিযান।
লাখপত লোধা নামে নাবালিকাদের এক আত্মীয়ের অভিযোগ, গত ১১ জুন ভরত লোধা তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও ভাইকে নিয়ে একটি গাড়িতে চার শিশুকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিলেন। পরে ওই দুই মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পারেন বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও গ্রামের বৈঠকে দুর্ঘটনাবশত চম্বল নদীতে পড়ে গিয়েছিল তাঁর দুই মেয়ে বলে দাবি করেন ভরত। কিন্তু কেন বিষয়টি এত দিন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল তা নিয়েই সন্দেহ জাগে বাসিন্দাদের মনে।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, দুই নাবালিকা মেয়েকে তাদের বাবা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, নাবালিকা দুই বোন স্থানীয় দুই তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিল। তাতে আপত্তি ছিল পরিবারের সদস্যদের। এই নিয়ে আগেও ওই দুই নাবালিকার ওপর শারীরিক নির্যাতন হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, ওই নাবালিকাকে নিয়ে গিয়ে চম্বল নদীর সেতু থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়। তবে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে চাইছেন না আধিকারিকরা। ওই নাবালিকার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাঁর ছেলেকেও বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।