বাবলু সাঁতরা, চন্দ্রকোণা
আমন চাষের সময় এসে গেলেও এখনও বর্ষা শুরু হয়নি। এ দিকে, বৃষ্টির জন্য চাষিরা বীজতলা তৈরির কাজ করতে পারছেন না। জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে বর্ষার শুরুতে এই চাষের জন্যে বীজতলা তৈরির কাজ শুরু করে দেন কৃষকেরা। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে বীজতলার চারা জমিতে রোপণ করা শুরু হয়। অর্থাৎ জুন-জুলাই মাসের মধ্যে আমন ধান চাষের জন্যে বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণের কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। বৃষ্টির জলের উপরে নির্ভর এই চাষে এ বছর দেখা দিয়েছে বিপত্তি। বৃষ্টি শুরু না হওয়ায় বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু জায়গায় বীজতলা তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ভূগর্ভস্থ জল। অধিকাংশ জায়গায় বীজতলা তৈরির কাজ শুরু করা যায়নি। তবে শুক্রবার দিনভর ভারি বৃষ্টি ও শনিবার সন্ধ্যার বৃষ্টিতে খানিক স্বস্তি পেয়েছেন কৃষকেরা। এই কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জল জমেছে জমিতে। তা কাজে লাগিয়ে বীজতলা তৈরির কাজ শুরু করেছেন কৃষকেরা। তাঁরা জানান, দিন পনেরোর মধ্যে পাকাপাকি ভাবে বর্ষা না নামলে আমন চাষ নিয়ে চিন্তায় পড়বেন চন্দ্রকোণার কৃষকরা।
কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় মোট ৩ লক্ষ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়। চন্দ্রকোণার দু’টি ব্লক মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আমন চাষ হয়। ঘাটাল মহকুমার পাঁচটি ব্লকের মধ্যে চন্দ্রকোণার দু’টি ব্লকে আলুর পরেই ধান চাষকে বেশি প্রাধান্য দেন কৃষকেরা। আলুর পর তিল চাষ, জমি থেকে তিল তুলে আমন ধান চাষের প্রস্তুতি শুরু করে দেন তাঁরা। জমির ভিত বা আল কেটে জমিতে লাঙল দিয়ে জমি প্রস্তুত করে নিয়ে বীজতলা তৈরির কাজ হয়। এ বছর আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় এখনও বর্ষা অধরা। রবিবার দিনভর আকাশ মেঘলা থাকলেও সে ভাবে বৃষ্টির দেখা মেলেনি। কৃষকদের দাবি, শুক্রবার ও শনিবার হওয়া বৃষ্টিতে কিছুটা হলেও উপকৃত হয়েছেন তাঁরা। ভারি বৃষ্টির জেরে জমিতে জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। এতে কৃষকেরা বীজতলা তৈরির সুযোগ পেয়েছেন। কৃষকেরা জানাচ্ছেন, দিন পনেরোর মধ্যে বর্ষা না নামলে চাষ পিছিয়ে যাবে। চাষ পিছিয়ে গেলে ফসলে রোগ দেখা দেবে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ফলনেও। চন্দ্রকোণার এক কৃষক মনোরঞ্জন কুণ্ডু বলেন, ‘আমার ১৫ বিঘা জমি রয়েছে, পুরোটাই আমন চাষ হবে। সেচের জলের জন্য আমার নিজস্ব নলকূপ রয়েছে। তা দিয়েই জলের ব্যবস্থা করেছি। এক কুইন্টাল বীজ ছড়ানো হয়েছে। চাষের খরচের থেকেও বর্তমানে কৃষকদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া। জল কিনতে হবে নয়তো বৃষ্টির আশায় থাকতে হবে।’
চন্দ্রকোণার বৈদ্যনাথপুর, সীতানগর, ফাঁসিডাঙা, বাচকা, নীলগঞ্জ, কুঁয়াপুর, বালা–সহ দুই ব্লকের বিভিন্ন মাঠের জমি চাষের জন্যে পড়ে রয়েছে। এলাকার কৃষকেরা জানাচ্ছেন, বীজতলা তৈরি থেকে জমিতে ধানের চারাগাছ লাগানো পর্যন্ত বিঘা প্রতি প্রায় আট হাজার টাকা খরচ হয়। এর মধ্যে ধান বীজ, রাসায়নিক সার, জমিতে লাঙল দেওয়ার জন্য রোটার মেশিনের খরচ, ধান লাগানোর মজুরদের পারিশ্রমিক রয়েছে। সে ভাবে বৃষ্টি না হলে জল কেনার খরচ যোগ হবে। ৯০ দিনের চাষ, ধান লাগানোর পরে নিয়মিত জমিতে জল দিতে হয়। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে চাষের জলের ঘাটতি নলকূপের জলে পূরণ করা সম্ভব নয়।
তবে কৃষি দপ্তর এখনই চিন্তা না করার পরামর্শ দিয়েছে। জেলা কৃষি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘এ জেলায় আমন ধানের চাষ দেরিতে শুরু হয়। বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষিতে প্রভাব পড়বে এটা এখনই বলা ঠিক নয়।’