এই সময়, শিলিগুড়ি: আজ, সোমবার শিলিগুড়ি পুরসভা তৃণমূল দখলে রাখতে পারবে কি না, তার অগ্নিপরীক্ষা। সোমবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে পুর কমিশনারের কাছে বোর্ড চালানোর মত সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলরদের সমর্থনের চিঠি পৌঁছনোর কথা। সেই সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু মেয়র গৌতম দেবের পদত্যাগের পর তৃণমূলের অন্দরে ডামাডোল শুরু হয়েছে। ফলে তৃণমূলের পক্ষে পুরসভা ধরে রাখা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক মহল।
গৌতম দেবের ইস্তফার পর একাধিক মেয়র পারিষদ, কাউন্সিলার পদত্যাগ করেছেন। যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের মতো সংখ্যা এখনও তৃণমূলের হাতে রয়েছে। ৪৭ আসনের শিলিগুড়ি পুরসভায় তৃণমূলের টিকিটের জিতেছিলেন ৩৭ জন। গৌতমের পদত্যাগ পর ৩৩ জন মিটিংয়ে বসেছিলেন। পরে তাঁদের কয়েকজন আবার পদত্যাগ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক কাউন্সিলার বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে বসে অনেকেই বোর্ড গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন। বাইরে বেরিয়ে তাঁদের অনেকেই পদত্যাগ করেছেন।’ এক মহিলা কাউন্সিলার বলেন, ‘সবাই একসঙ্গে থাকলে আমরা বোর্ড চালাতে পারতাম। এ ভাবে মাঝপথে যদি আমরা বোর্ড ছেড়ে দিই তাহলে মানুষের কাছে আর মুখ দেখানো যাবে না।’
সূত্রের খবর, দলেরই একটি অংশ তৃণমূল বোর্ড দখল করুক সেটা চাইছে না। যদিও দার্জিলিং জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার কুন্তল রায় বলেন, ‘দলীয় নেত্ৃত্বের সিদ্ধান্তমতো রঞ্জন সরকার মেয়র এবং সঞ্জয় পাঠক ডেপুটি মেয়র হিসেবে বোর্ড পরিচালনা করবেন। বোর্ড গঠনের বিষয়টি তাঁরাই দেখছেন।’ যদিও এদিন রঞ্জন কিংবা সঞ্জয়ের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দু’জনের কেউই ফোনে সাড়া দেননি। পুরসভার এই অনিশ্চয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈন। বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, পুরবোর্ড চালানোর মত সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে তৃণমূলের। তারা যেন নিজেদের দায়িত্ব থেকে সরে না আসে। কিন্তু তারা শহরের মানুষের কথা চিন্তা না করে দায়িত্ব থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।’