বাংলার পরিবর্তনের বাজেটে শিল্প-শিক্ষা-স্বাস্থ্যে কী পরিকল্পনা? জানতে চায় দেশও
প্রতিদিন | ২২ জুন ২০২৬
আজ বাংলার বাজেটের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ। পরিবর্তনের পর ডাবল ইঞ্জিনের রোডম্যাপ কী হবে, তা জানা যাবে এই বাজেটে। বাংলার বিজেপি সরকারকে ঘিরে গোটা দেশে আগ্রহ তুঙ্গে। কোন পথে এগোবে বাংলা, আজ রাজ্য বাজেট থেকে তা দেশ জানতে চায়।
আজ বেলা ১২টায় বাজেট পেশ হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কয়েকদিন আগেই ঘোষণা করেছেন, তাঁর সরকারের প্রথম বাজেট হবে দেখার মতো। যেখানে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তের উন্নয়নের কথা থাকবে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ড. স্বপন দাশগুপ্তর কাছে তাঁর প্রথম বাজেট সত্যিই চ্যালেঞ্জের। আগের সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি ইতিমধ্যে বলেছেন, “ট্রেডমিলে দাঁড়িয়ে বাজেট করব না। বাজেট আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ।”
পূর্বতন সরকার রাজ্যের ঘাড়ে ৭.৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ চাপিয়ে গিয়েছে। এই ঋণের জন্য ২০২৫-‘২৬ অর্থবর্ষে ৮২ হাজার কোটি টাকা রাজ্যকে দিতে হয়েছে। যারমধ্যে শুধু সুদ ৪৯ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫-‘২৬ অর্থবর্ষে বাজেটে রাজ্যের নিজস্ব প্রস্তাবিত আয় ১ লক্ষ ১২ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ রাজ্যের নিজস্ব আয়ের ৭৫ শতাংশই চলে যাচ্ছে ঋণ শোধে। কেন্দ্রীয় করের ভাগ ও কেন্দ্রের অনুদান মিলিয়ে গত বাজেটে রাজ্যের প্রস্তাবিত আয় ২ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা। এই আয়ের পরিমাণ স্বপন দাশগুপ্তর পেশ করতে চলা বাজেটে নিঃসন্দেহে বাড়বে। আয় বাড়ানো তাঁর প্রথম লক্ষ্য, সে কথা দপ্তরের দায়িত্ব নিয়েই তিনি জানিয়েছেন।
বাজেট করার আগে স্বপন দাশগুপ্ত দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ও নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক সেরে এসেছেন। কেন্দ্রের সাহায্য কতটা মিলবে, তা নিঃসন্দেহে নির্মলা জানিয়ে দিয়েছেন। নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ হওয়ার আগে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ী রাজ্য বিধানসভায় পাঁচ বছর কাটিয়ে গিয়েছেন। নীতি আয়োগের অর্থ সাহায্যের সুযোগ নেই, কিন্তু অশোক লাহিড়ি নিশ্চিত করেই রাজ্যের অর্থনীতি নিয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা-চিন্তা রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। যার প্রতিফলন বাজেটে থাকবে।
তাঁর বাজেট ভাবনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে স্বপন দাশগুপ্ত আরও জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রয়োজন ‘মার্শাল প্ল্যান’। কী এই ‘মার্শাল প্ল্যান’? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের পুনর্গঠনের জন্য ‘মার্শাল প্ল্যান’ তৈরি হয়েছিল। রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের কাছে বাংলার পুনর্গঠন সেইরকমই এক দায়বদ্ধতা। এই পুনর্গঠনের কাজ যে পরিকাঠামোয় কেন্দ্রের বিপুল লগ্নির মধ্যে দিয়ে শুরু হবে, সেই ইঙ্গিত ‘মার্শাল প্ল্যানে’র মন্তব্যে লুকিয়ে। আজ বাজেটে
পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে বহু ঘোষণা থাকবে বলে আশা করা যায়।
সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীদের তিনটি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, ডিএ নিয়ে কিছু ঘোষণা বাজেটে থাকবে। শিল্প ও বণিকমহল নতুন জমিনীতি, শিল্পস্থাপনে উৎসাহভাতা, স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশন ডিউটির ক্ষেত্রে কিছু ছাড় ইত্যাদি ঘোষণা নিয়ে আশাবাদী। জিএসটি চালু হওয়ার পর থেকে বিক্রয় কর তথা পরোক্ষ কর নিয়ে রাজ্য বাজেটে কোনও ঘোষণা থাকে না। একমাত্র আবগারি করের ক্ষেত্রে কিছু ঘোষণা হয়। এতে সাধারণ মানুষের উপর চাপ বাড়ার বিষয় নেই। তবুও রাজ্যবাসী বাজেট নিয়ে অধীর অপেক্ষায় এই কারণেই যে, ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আগামিদিনের কর্মসূচি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা মিলবে প্রথম বাজেটেই।
স্বপন দাশগুপ্ত অবশ্য সংবাদমাধ্যমে এ কথাও জানিয়ে রেখেছেন যে, এই বাজেট অর্থবর্ষের বাকি থাকা ৮ মাসের জন্য। এই অল্প সময়ের জন্য করা বাজেটে সরকারের পুরো রোডম্যাপ জানানো সম্ভব নয়। বিজেপির ইস্তাহারে বলা আছে, আগের সরকারের আমলে শুরু কোনও সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ হবে না। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এই সরকার প্রথম মাসেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা দ্বিগুণ করে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করেছে। ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে সরকারের কল্যাণমূলক প্রকল্পে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে রাজ্যের আর্থিক পুনর্গঠনে পর্যাপ্ত টাকা খরচ করা সত্যিই এক কঠিন ধাঁধা। এর উত্তরও মিলবে আজ।