• বারাকপুরে ভালো-খারাপ তৃণমূল নিয়ে বিজেপিতে আড়াআড়ি ভাগ
    বর্তমান | ২২ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বারাকপুরের রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ! ভালো, নাকি খারাপ তৃণমূল— এই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন খোদ মন্ত্রী-বিধায়করা। এ নিয়ে সরগরম বারাকপুর শিল্পাঞ্চল। কারণ, যোগ দিবসের দিন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং যখন একের পর এক প্রাক্তন তৃণমূল নেতা ও পুর চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, তখন এক অনুষ্ঠানে তৃণমূলের এক প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে মঞ্চে দেখে ফিরে যান বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। এনিয়ে বিজেপির অন্দরে বিতর্ক চরমে উঠেছে। 

    রবিবার বারাকপুরের সদ্য পদত্যাগী চেয়ারম্যান উত্তম দাসের বাড়িতে আচমকা হাজির হন রাজ্যের শ্রম ও পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। প্রায় আধঘণ্টা তাঁরা একান্ত বৈঠক করেন। বৈঠকের পর উত্তম দাস বলেন, এটা নিতান্তই সৌজন্য সাক্ষাৎ, এর মধ্যে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। অর্জুন সিং এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। এরপর তিনি টিটাগড় পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রশান্ত চৌধুরীর ব্যক্তিগত অফিসে যান। তৃণমূলের দুই প্রাক্তন নেতার সঙ্গে অর্জুনের সাক্ষাৎ শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    এদিন বারাকপুরে বিভূতিভূষণ ক্রীড়াঙ্গণে মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল এক প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে মন্ত্রী অর্জুন সিং, বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী ছাড়াও একাধিক প্রাক্তন ফুটবলার সহ বিশিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু মঞ্চে বারাকপুরের প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যান উত্তম দাসকে দেখে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কৌস্তভবাবু। তবে উদ্যোক্তাদের অনুরোধে জাতীয় সংগীত শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে অপেক্ষা করেন। এরপর কৌস্তভ বাগচী অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। এনিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, অতীতেও বলেছি, কোনো তৃণমূল নেতা-নেত্রীর সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করব না। উত্তম দাস যেখানে রয়েছেন, সেখানে আমার পক্ষে থাকা সম্ভব নয়। কর্মী-সমর্থকদের আবেগের সঙ্গে আমি আপস করতে পারব না। কোনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা চাইনি।

    টিটাগড়ের টাটা গেটে তৃণমূলের বারাকপুর-দমদম সাংগঠনিক জেলার অফিস ছিল। ভোটের ফলপ্রকাশের পর ওই অফিসে ভাঙচুর করে তালা লাগিয়ে দিয়েছিলেন বিজেপির কর্মীরা। তারপর থেকেই অফিসটি বন্ধ। এদিন সেই অফিসটি মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের কার্যালয় হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। উল্লেখ্য, এবার ওই কার্যালয়েই অর্জুন সিং বসবেন। এনিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)