মুম্বই পুলিশের একাংশের সঙ্গে যোগসাজশ, বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণায় ধৃত ২
বর্তমান | ২২ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুম্বই পুলিশের একাংশের সঙ্গে যোগসাজশে কলকাতাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলছিল প্রতারণা। বিদেশের কোম্পানিতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতাচ্ছিল একটি অসাধু চক্র। ভিন রাজ্যের পুলিশ তল্লাশিতে এলেই স্থানীয় থানার মাধ্যমে খবর পৌঁছে যেত অভিযুক্তের কাছে। সেই সুযোগে পালিয়ে যেত অভিযুক্ত। শেষ পর্যন্ত ওয়াটগঞ্জ থানা সেই অভিযুক্ত নাদের আলি শেখকে মুম্বইয়ের থানে থেকে পাকড়াও করে নিয়ে এল। গ্রেপ্তার করা হয়েছে কলকাতায় তার শাগরেদ সাজ্জাদ কামরানকে। নাদেরের বিরুদ্ধে ওয়াটগঞ্জ ছাড়াও একবালপুর ও শেক্সপিয়র সরণি থানা এলাকায় প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসে ওয়াটগঞ্জ এলাকার এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তাঁকে কানাডার একটি রেস্তরাঁয় চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে। তাঁকে বলা হয়, ভিসাও করে দেওয়া হবে। কানাডায় চাকরির সঙ্গে পড়াশোনাও করতে পারবেন তিনি। কলকাতার বাসিন্দা সাজ্জাদ কামরান নামে এক যুবক তাঁকে এই চাকরির বিষয়ে জানায়। ওই চাকরিপ্রার্থীকে মুম্বই নিয়ে গিয়ে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় নাদেরর সঙ্গে। তাঁকে বলা হয়, চাকরি পেতে গেলে ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। তিনি চাকরির আশায় সেই টাকা দিয়েও দেন। তখন তাঁকে ভুয়ো ভিসা ও বিমানের নকল টিকিট ধরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারেন, ওই টিকিট জাল। ভিসা অফিসও জানিয়ে দেয়, সেটি নকল।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নাদেরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আছে বিভিন্ন রাজ্যে। একই কায়দায় সে প্রতারণা করেছে অন্যত্রও। কিন্তু অভিযুক্তের মুম্বই পুলিশের একাংশের সঙ্গে যোগযোগ রয়েছে। সেই সূত্রেই সে বারবার পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে চম্পট দিতে সক্ষম হচ্ছে। এই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে ওয়াটগঞ্জ থানার টিম মুম্বই পৌঁছেই তার বাড়ি ঘিরে ফেলে। অভিযুক্ত যে সেখানেই রয়েছে, আগে নিশ্চিত হয় তারা। তারপর স্থানীয় থানায় গিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানানো হয়। কিন্তু অভিযুক্তের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি সেখানে। এরপর স্থানীয় থানাকে সঙ্গে নিয়েই নাদেরের বাড়িতে ঢোকে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তার করে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। ধৃতকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, কলকাতায় থাকা তার এজেন্ট তাঁর সম্পর্কে ভাইপো। শনিবার পুলিশ ভাইপো সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে।