• হাসপাতালে রোগীদের খাবারের বরাদ্দ বাড়ল দ্বিগুণ, চার জেলায় নয়া মেডিক্যাল কলেজ, বাজেটে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে চমক রয়েছে আরও...
    এই সময় | ২২ জুন ২০২৬
  • পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশ হলো সোমবার। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে একের পরে এক বড় ঘোষণা সরকারের। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের Full Rice Diet-এর ক্ষেত্রে বাড়ল বরাদ্দ। এত দিন রোগীদের জনপ্রতি ৫৬.৬৪ টাকা থেকে বরাদ্দ ছিল, এ বার থেকে তা বাড়িয়ে ১১০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    বিজেপি সরকার বাংলায় ক্ষমতায় আসার পরে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প যুক্ত হয়েছে বাংলার সঙ্গে। ঢেলে সাজা হচ্ছে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোও। এরই মধ্যে বাজেটেও একের পরে এক চমক।

    ১. আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হবে। এ ছাড়াও সরকার ১৩টি রাজ্য সরকারি মেডিক্যাল কলেজে প্রায় ৬৫০টি MBBS আসন এবং ৪৫০টিরও বেশি PG আসন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

    ২. রাজ্য সরকার উত্তরবঙ্গে একটি AIIMS হাসপাতাল, সুন্দরবন ও পুরুলিয়া এবং দার্জিলিং-এ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, উত্তরবঙ্গে একটি বিশিষ্ট ক্যান্সার হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেবে। সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালকে একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নীত করা হবে।

    ৩. সুন্দরবনে মোটরবোট অ্যাম্বুল্যান্স ও দ্বীপভিত্তিক প্রসূতি কেন্দ্র চালু করা হবে।

    ৪. ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে’র জন্য মোট ৩,১০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দে প্রস্তাব করা হয়েছে। এই স্কিমে ASHA/ICDS কর্মী ও ৭০ বছরের বেশি বয়সের সকল নাগরিক-সহ প্রায় ৭ কোটি মানুষ এর আওতায় আসবেন। যে সমস্ত গরিব মানুষ এ ইস্কিমের আওতায় আসবেন না, তাঁদের CM Relief Fund থেকে অর্থ সাহায্য করা হবে।

    ৫. আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বেসরকারি সেক্টরের সঙ্গে যৌথ ভাবে পাঁচটি আঞ্চলিক মেডিক্যাল হাব তৈরি করা হবে।

    ৬. হরিপাল, বামনগোলা, ফরাক্কা, দিঘা, ঝালদা, মানবাজারের বর্তমান হাসপাতালের আধুনিকীকরণ হবে।

    ৭. প্রতিটি জেলা ও মহকুমা হাসপাতালে MRIT স্টোর তৈরি করা হবে।

    ৮. চিকিৎসা পর্যটনের (Medical Tourism) উল্লেখ করা হয়েছে বাজেটে। এ ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার অত্যাধুনিক সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলিকে (private organizations) আমন্ত্রণ জানাতে বিশেষ উদ্যোগ নেবে। যেখানে তারা সরকারকে অন্তত ৫০ শতাংশ শয্যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অথবা ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে দেবে। এই সংস্থাগুলি একই মানের হাসপাতালগুলির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে বাকি শয্যাগুলির হার ঠিক করতে পারবে।

    এ দিন বাজেট প্রস্তাব শেষে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।রোগীদের খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শুভেন্দু লেন, ‘হাসপাতালে ৫৬ টাকায় তিন বেলা খাবার দেওয়া হতো। পিজিতে ভিজ়িটে গিয়েছিলাম। ডাক্তাররাই বললেন, দুপুরেও কুমড়ো, সন্ধেবেলায়ও কুমড়ো। আমি জানতে চাইলাম, কত টাকা হলে রোগীরা ঠিক মতো খাবার পাবেন? বললেন, ১০৪ টাকায় মোটামুটি তিন বেলা হবে। আমি অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করলাম ওটা ১১০ করে দিন। রোগীরা একটু ভালো খাবার পাক।’

  • Link to this news (এই সময়)