• বাবা-মা কাজে দূরে! সন্তানদের শিক্ষায় সমাধান রাজ্যের
    আজকাল | ২২ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি যাঁরা করেন তাঁদের সন্তানদের শিক্ষা নিয়ে অনেক মা-বাবাকেই চিন্তায় থাকতে হয়। বার বার ট্রান্সফার হওয়ায় শিক্ষাবর্ষের ঠিক মাঝখানে নতুন স্কুল ভর্তি হওয়া বা নতুন জায়গায় গিয়ে নতুন ভাবে পড়াশোনা শুরু করায় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় পড়ুয়াদের জন্য। এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। সোমবার নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে সরকারি চাকরিরত বাবা-মায়েদের সন্তানদের পড়াশোনার চিন্তা কমাতে বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

    সোমবার বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, “রাজ্য সরকার নয়াদিল্লি আদলে সিভিন সার্ভিস অফিসারস ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার জন্য নিউটাউনে প্রায় ৫ একর জমি দেবে। একইভাবে, তাঁদের সন্তানদের ভাল মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে ও বাবা-মায়ের পোস্টিং কলকাতার বাইরে হওয়ার জন্য যাতে তারা কোনও অসুবিধায় না পড়ে সেজন্য দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় যেভাবে হয়েছে সেই ধাঁচে কলকাতায় একটি ‘সংস্কৃতি স্কুল’ গড়ে তোলা হবে।”

    বর্তমানে সরকারি চাকরি সূত্রে বাংলার বাইরে কর্মরত বাবা-মায়ের সন্তানদের শিক্ষার জন্য মূলত কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় এবং জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও, চিলড্রেন এডুকেশন অ্যালাউন্স এবং ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়মাবলীর মাধ্যমে পড়ুয়াদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়। দেশজুড়ে বিস্তৃত কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়গুলিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের সন্তানদের ভর্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যার ফলে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে বদলির সময় শিশুদের নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়া অত্যন্ত সহজ হয়। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা তাঁদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য চিলড্রেন এডুকেশন অ্যালাউন্স পেয়ে থাকেন। এটি প্রতি সন্তান পিছু নির্দিষ্ট হারে প্রদান করা হয়। বাংলার বাইরের বেশিরভাগ রাজ্যে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় বা অন্যান্য বোর্ডে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করানো হয়, যা পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য সিবিএসই সিলেবাসে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।

    এর পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রের জন্য আরও উদ্যোগী হয়েছে নতুন সরকার। বাজেটে বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির রাজ্যের প্রতিটি জেলায় তৈরি হবে বিনামূল্যের কোচিং সেন্টার। রাজ্যে আদর্শ বিদ্যালয় তৈরির জন্য ২১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। সংস্কৃত কলেজ ও সংস্কৃত ভাষার প্রসারের জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে ৫০ কোটি টাকা। ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ায় দু’টি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হবে।
  • Link to this news (আজকাল)