• ১৩ বছর বন্ধ, ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ ফেরানোর প্রস্তাব BJP-র বাজেটে
    আজ তক | ২২ জুন ২০২৬
  • Calcutta Stock Exchange Revival: ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ কি স্বমহিমায় ফিরতে চলেছে? বাজেটে সেই ইঙ্গিতই দিল বিজেপি সরকার। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। জানান, কলকাতাকে ফের পূর্ব ভারতের আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আর সেই লক্ষ্যেই ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের পুনরুজ্জীবনে সহায়তা করবে রাজ্য সরকার।

    এক সময়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শেয়ার বাজার ছিল ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ। কিন্তু আইনি জটিলতা, নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত বাধা এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যত বন্ধ এই প্রতিষ্ঠান। এহেন পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের এই ঘোষণা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, মত অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশেষজ্ঞদের।

    বাজেটে কী বলা হয়েছে?
    স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, কলকাতার বাণিজ্যিক মহিমা ফিরিয়ে আনতে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ ফিরিয়ে চায় সরকার। তাঁর মতে, এই প্রতিষ্ঠান ফের চালু হলে পূর্ব ভারতের শিল্প ও ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির মূলধন সংগ্রহের  সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি শেয়ার বাজারে এনলিস্টিং ও শেয়ার ট্রেডিংয়ের খরচ কমতে পারে। নতুন কর্মসংস্থানের পথও খুলে যেতে পারে।

    সরকারের দাবি, 'বিকশিত ভারত' এবং 'বিকশিত বাংলা'র লক্ষ্যে এগোতে গেলে রাজ্যের আর্থিক পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সেই কারণেই ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের পুনরুজ্জীবনে এতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    সম্প্রতি ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিনিধিরা রাজ্যের শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তাঁরা রাজ্য সরকারের কাছে প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচিয়ে রাখার আর্জি জানান। এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা আর স্বেচ্ছায় বন্ধ হওয়ার পথে হাঁটতে চায় না। বরং পুনরায় শেয়ার লেনদেন শুরু করে বাজারে ফিরতে আগ্রহী।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ স্বেচ্ছায় বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছিল। তবে এখনও পর্যন্ত সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (SEBI)। ফলে ফেরার সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

    ২০১৩ সাল থেকে ট্রেডিং বন্ধ 
    ২০১৩ সালের এপ্রিলে SEBI ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল ট্রেডিং কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিযোগ ছিল, প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো, প্রশাসনিক মানদণ্ড এবং বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে প্রচুর খামতি রয়েছে।

    এর পর থেকে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলেছে। বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন।

    তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র সরকারের সাপোর্ট পেলেই ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ চালু হয়ে যাবে, এমনটাও নয়। গত এক দশকে ভারতের শেয়ার বাজার ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। এখন অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, পাওয়ারফুল সাইবার সিকিউরিটি সিস্টেম এবং উন্নত ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট পরিকাঠামো ছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জ চালানো সম্ভব নয়।

    তাই ফের ট্রেডিং শুরু করতে হলে CSE-কে আধুনিক প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং নিয়ন্ত্রক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন বিরাট অঙ্কের বিনিয়োগ।

    ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ ফিরে এলে পূর্ব ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলির অর্থ সংগ্রহের নতুন পথ খুলে যাবে। একই সঙ্গে কলকাতার আর্থিক গুরুত্বও বাড়তে পারে।

    ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত। এক সময়ে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শেয়ার বাজার হিসেবে পরিচিত ছিল। নতুন রাজ্য সরকার সেই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানকে নবজন্ম দিতে পারে কি না, সেদিকেই নজর শিল্পমহল ও বিনিয়োগকারীদের। 
  • Link to this news (আজ তক)