শিলিগুড়ি 'অনাথ'! মেয়রের পর মহকুমা পরিষদের সভাপতিরও ইস্তফা
আজ তক | ২২ জুন ২০২৬
Siliguri Crisis: শিলিগুড়ি মহকুমা জুড়ে বর্তমানে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হয়েছে। একদিকে শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র গৌতম দেব পদত্যাগ করেছেন, অন্যদিকে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষও ইস্তফা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। উন্নয়নমূলক কাজ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং দৈনন্দিন পরিষেবা কতটা স্বাভাবিক থাকবে তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা এবং শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র গৌতম দেব তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে বড় চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং নির্বাচনী ফলাফলের পরবর্তী পরিস্থিতির মধ্যেই এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যেই শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষের পদত্যাগের খবর সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে শূন্যতা তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ উন্নয়ন, রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
শিলিগুড়ি উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এবং প্রশাসনিক কেন্দ্র। ফলে পুরনিগম এবং মহকুমা পরিষদ উভয় ক্ষেত্রেই নেতৃত্বের পরিবর্তনের প্রভাব বৃহত্তর অঞ্চলের উপর পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে নতুন নেতৃত্ব কে আসবেন এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব কীভাবে পরিচালিত হবে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
অন্যান্য তৃণমূল কাউন্সিলরদের দাবি, সাধারণ মানুষের পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শূন্য পদগুলিতে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়োগ নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে সাধারণ মানুষের একাংশের বক্তব্য, রাজনৈতিক পালাবদল বা নেতৃত্বের পরিবর্তন যাই হোক না কেন, উন্নয়নের কাজ এবং নাগরিক পরিষেবা যাতে বন্ধ না হয় সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন সকলের নজর রাজ্যের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং নতুন প্রশাসনিক নেতৃত্বের দিকে।
কিন্তু তা কতটা কার্যকর করতে পারবে শিলিগুড়ি পুরনিগম বা শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী থেকে সাধারণ মানুষ। কারণ তৃণমূল সরকারে থাকাকালীনই এই দুই নির্বাচিত বোর্ডের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। পরিষেবা লাটে উঠেছিল বলে ক্ষোভ রয়েছে সাধারণ নাগরিক থেকে বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদারদেরও। কাজের টাকা দীর্ঘদিন দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তাঁরা। এখন কয়েক মাস বাকি থাকা বর্তমান পুর ও মহকুমা পরিষদ বোর্ড কী কাজ করবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এখন মেয়র ও সভাধিপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু কাঁটার মুকুট পরতে তৃণমূলেরও অনেকে ইচ্ছে থাকলেও সাহস পাচ্ছেন না। তাই এই গড়িমসির মধ্যে আসল কাজ পরিষেবা নিয়ে ফের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।