অবিবাহিত মেয়েদের ৫০ হাজার, মেধাবী ছাত্রদের ৩০ হাজার টাকা,ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বাজেটে বড় চমক
আজ তক | ২২ জুন ২০২৬
অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বাজেটেই রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থানের কথা বললেন স্বপন দাশগুপ্ত। সোমবার বিধানসভায় বিজেপি সরকার তাদের প্রথম আর্থিক বাজেট পেশ কর। সেই বাজেটে সরকারি চাকরিতে এক লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে বলে প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যার মধ্যে ৩৩ শতাংশ পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলে ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এছাড়াও সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ, এনভিএফ কর্মী, প্রাণীবন্ধু, প্রাণীমিত্রদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির ঘোষণাও এদিন করা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, ডিএ নিয়েও বড় ঘোষণা হয়েছে। ২০ শতাংশ DA বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের সরকারি কর্মী, আধা সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা বর্তমানে ১৮ শতাংশ ডিএ পান। সোমবার বাজেট প্রস্তাবে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট ডিএ-র হার হবে ৩৮ শতাংশ। যাঁরা পেনশন পান, তাঁরাও অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ পাবেন। যা ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে কার্যকরী হবে।
ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যও বাজেটে বড় ঘোষণা করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘অবিবাহিত ছাত্রীদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। শিক্ষিত বেকারদের ভরসা কর্মসূচিতে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।’ সেইসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন মেধাবী ছাত্রদের এককালীন ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।'
আশাকর্মী এবং আইসিডিএস কর্মী, হোম গার্ড সকলেরই মাসিক যে পারিশ্রমিক দেওয়া হয় তাও বাড়ান হয়েছে বাজেটে। আশাকর্মী এবং আইসিডিএস কর্মীদের মাসিক পারিশ্রমিক বাড়ছে ৫ হাজার টাতা। অন্যদিকে হোম গার্ডদের বাড়ছে ২ হাজার টাকা। পাশাপাশি সমাজের সবচেয়ে অসুরক্ষিত শ্রেণির মানুষের সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে বয়স্ক, বিধবা ও বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকদের মাসিক পেনশন ৫০০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে লক্ষাধিক উপভোক্তা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে সরকারের আশা।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য রাজ্যের প্রতিটি জেলায় বিনামূল্যের কোচিং সেন্টার চালুর ঘোষণা করেছে সরকার। চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য রাজ্যের সব জেলাতেই বিনা খরচে কোচিং সেন্টার তৈরি করা হবে। পাশাপাশি আদর্শ বিদ্যালয় গঠনের লক্ষ্যে ২,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানানো হয়েছে। সংস্কৃত কলেজ ও সংস্কৃত ভাষার প্রসারের জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে ৫০ কোটি টাকা। এছাড়া ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ায় দু’টি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।