• ফিরল স্বর্ণ মন্দিরের বিভীষিকা! অস্ত্রশস্ত্র হাতে গুরুদ্বার ‘দখল’ নিহাঙ্গ শিখদের, পণবন্দি পুণ্যার্থী
    প্রতিদিন | ২২ জুন ২০২৬
  • ফিরল ৪২ বছর পুরনো স্বর্ণ মন্দিরের বিভীষিকা। তরোয়াল-সহ অস্ত্রশস্ত্র হাতে উত্তরাখণ্ডের একটি গুরুদ্বার দখলের অভিযোগ উঠল নিহাঙ্গ শিখদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, গুরুদ্বারের ছাদে এক পুণ্যার্থীকেও পণবন্দি করা হয়েছে বলে খবর। গোটা ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে।

    কিন্তু কী কারণে গুরুদ্বার এহেন ‘হামলা’ নিহাঙ্গ শিখদের? জানা গিয়েছে, গত ১৬ জুন কার্নপ্রয়াগে হেমকুণ্ড সাহিব থেকে ফেরা মোহালির কয়েকজন নিহঙ্গ শিখদের সঙ্গে স্থানীয়দের বচসা বাঁধে। ক্রমে তা বড়সড় সংঘর্ষে পরিণত হয়। অভিযোগ, নিহঙ্গ শিখরা তলোয়ার নিয়ে হামলা চালান স্থানীয়দের উপর। তাতেই এক নিহঙ্গ শিখ-সহ আহত হন চারজন। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তদের। তাঁদের মুক্তির দাবিতেই ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উত্তরাখণ্ডের ওই গুরুদ্বার দখল করে রেখেছে নিহঙ্গ শিখরা। শনিবার সন্ধ্যায় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁরা গুরুদ্বারে প্রবেশ করেন এবং গুরুদ্বারের ছাদে এক পুণ্যার্থীকে পণবন্দি করেন। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘিরে রাখা হয়েছে গোটা এলাকা। গুরুদ্বারের ছাদে অবস্থানরত ছয় নিহঙ্গ শিখকে নিচে নেমে আসার জন্য রাজি করানোর প্রচেষ্টা চলছে। সূত্রের খবর, ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় কেটে গেলেও এখনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

    প্রসঙ্গত, এই ঘটনা ৪২ বছর পুরনো অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দিরের বিভিষীকার স্মৃতি উসকে দিয়েছে। ১৯৮৪ সালের জুন মাসে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা জার্নেল সিং ভিন্দ্রানওয়াল এবং তার কয়েকশো অনুগামী স্বর্ণ মন্দিরের দখল নিয়েছিল। এরপর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে ভারতীয় সেনাবাহিনী স্বর্ণ মন্দিরকে ‘জঙ্গিমুক্ত’ করতে শুরু করে অপারেশন ব্লু স্টার। লাগাতার গুলিযুদ্ধের পর অভিযানে নিহত হয় বহু খলিস্তানি জঙ্গি এবং তাদের নেতা ভিন্দ্রানওয়ালে। এই অভিযানের জেরে পাঞ্জাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী খলিস্তানি আন্দোলনের মাজা ভেঙে যায়। বহু খলিস্তানি জঙ্গি নেতা ও সন্ত্রাসবাদী পাকিস্তানে পালিয়ে যায় ও তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের নির্দেশে পাক সেনার কাছে নিরাপদ আশ্রয় পায়।
  • Link to this news (প্রতিদিন)