জেলায় ছুটবে মেট্রো, পুরুলিয়া-মালদহে বিমানবন্দর, বাজেটে বড় ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
প্রতিদিন | ২২ জুন ২০২৬
রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে (Bengal Budget 2026) জোর দেওয়া হল যোগাযোগ ব্যবস্থায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পরিকল্পনা অনুযায়ী শহর কলকাতার গন্ডি পেরিয়ে এবার জেলাগুলিতেও চলবে মেট্রোরেল! সোমবার অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেটে ঘোষণা করেন, এবার শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর, আসানসোল শহরে মেট্রো পরিষেবা চালু করতে চায় রাজ্য সরকার। সেইসঙ্গে পুরুলিয়া, মালদহে তৈরি হবে বিমানবন্দর। আরও বড় ঘোষণা, দমদম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চাপ কমাতে এর অদূরে, কলকাতাতেই তৈরি হবে আরেকটি বিমানবন্দর। এর জন্য কল্যাণীর নাম প্রস্তাব করেছে রাজ্য সরকার। এছাড়া পূর্বঘোষণা অনুযায়ী পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুরের অদূরে দাদনপাত্রবাড়ে তৈরি হবে গভীর সমুদ্র বন্দর, সেই ঘোষণাও করেছেন অর্থমন্ত্রী।
গত ৪মে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর রাজ্যকে ঢেলে সাজানো নিয়ে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তার মধ্যে অন্যতম গোটা রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত এবং দ্রুত করা। যার জন্য কলকাতার বাইরে জেলা শহরগুলিতেও পাতাল পরিষেবার ভাবনা ছিল রাজ্য সরকারের। শুভেন্দু অধিকারীর পরামর্শ ছিল, যেসব শহরে কয়েক ২৫ থেকে ৩০ লক্ষের বেশি মানুষের বসবাস, সেখানে মেট্রো পরিষেবা চালু হোক। সেইমতোই বাজেটে প্রস্তাব রাখলেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, এবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল, দুর্গাপুরেও ছুটবে মেট্রোরেল। কাজ শুরু হবে দ্রুত। এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে তিন শহরবাসীর জন্য বড় সুবিধা।
অন্যদিকে, পুরুলিয়া এবং মালদহে নতুন বিমানবন্দর তৈরি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। পুরুলিয়ার ছররায় জমি জরিপের কাজও খানিকটা হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আমলে। মালদহেও সেই কাজ হয়েছিল। তবে শেষপর্যন্ত কাজ বিশেষ এগোয়নি। নতুন রাজ্য সরকারের আমলে সেই কাজে গতি আসছে। উত্তরবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরের উপর চাপ কমিয়ে আকাশপথে যোগাযোগ আরও মসৃণ করতে মালদহে তৈরি হবে আরেকটি বিমানবন্দর। অন্যদিকে, দুর্গাপুরের অন্ডাল বিমানবন্দরের পাশাপাশি জঙ্গলমহল এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়াতে বিমানবন্দর তৈরি হবে বলে ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)। এছাড়া তিনি জানান, কলাইকুণ্ডা ও হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটি সম্প্রসারণের জন্য জমি দেওয়া হবে রাজ্যের তরফে। হাসিমারায় ২৫ একর ও কলাইকুণ্ডার জন্য ৩৭ একর জমি দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।