• ৩৪ বছর চিরকুটে চাকরি, মমতার ‘ঘেউঘেউ’, পূর্বতনদের বিঁধে সরকারি কর্মীদের ডিএ বার্তা ‘বন্ধু’ শুভেন্দুর  
    প্রতিদিন | ২২ জুন ২০২৬
  • না বাম, না তৃণমূল- কেউই দিনশেষে ভাবেনি সরকারি কর্মীদের কথা। বাজেটের (West Bengal Budget 2026) পর সাংবাদিক বৈঠক থেকে আরও একবার একথাই বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু  অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এরপরই বকেয়া ডিএ ও কেন্দ্র-রাজ্যের সমহারে ডিএ ইস্যুতে বন্ধু হিসেবে সরকারি কর্মীদের কাছে খানিকটা সময় চেয়ে নিলেন তিনি। বললেন, “বন্ধু হিসেবে কয়েকটা মাস দিন আমাকে। নতুন অর্থমন্ত্রীর সবটা বুঝতে সময় লাগে।”

    ডিএ অর্থাৎ মহার্ঘভাতা নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের আন্দোলন চলছে দীর্ঘদিন ধরে। দাবি মূলত দু’টো, কেন্দ্র ও রাজ্যের সমহারে ডিএ এবং বকেয়া পরিশোধ। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের লড়াই সুপ্রিম কোর্ট অবধি পৌঁছেছিল। শীর্ষ আদালত অবিলম্বে বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও তৃণমূল সরকার অর্থাভাবের কথা জানিয়ে বাড়তি সময় চেয়ে নেয়। পরবর্তীতে ২ দফায় মোট বকেয়ার ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয় আদালতের তরফে। সরকারি কর্মীরা তা পেলেও, সরকার পোষিত প্রতিষ্ঠানের কর্মী, পেনশনভোগীরা তা পাননি। সম্প্রতি এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা। 

    সোমবার বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী। একধাক্কায় বাড়ল ২০ শতাংশ ডিএ। অর্থাৎ এবার রাজ্য সরকারি কর্মীরা পাবেন ৩৮ শতাংশ ডিএ। এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি সরকারি চাকুরেরা। তবে প্রশ্ন কয়েকটা থাকছেই। কারণ বকেয়া ডিএ-র বিষয়টার এখনও মীমাংসা হয়নি। এদিকে কেন্দ্রের সঙ্গে এখনও কিছুটা ফারাক রয়ে গেল। বাজেটের পর সাংবাদিক বৈঠক করে এই সমস্ত ইস্যু নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘেউঘউ’ মন্তব্য উসকে তিনি বলেন, “আগের সরকার কর্মীদের কিছুই দেয়নি। আমি কথা দিয়েছিলাম। কেন্দ্রের সঙ্গে আপনাদের ফারাক ছিল ৪২ শতাংশ। একসঙ্গে ২০ শতাংশ দিলাম। কয়েকটা মাস সময় দিন। সমহারে ডিএ পাবেন আপনারা। বকেয়া যারা পাননি এখনও তা ধীরে ধীরে পেয়ে যাবেন, ফান্ড এলেই।” 

    উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ডিএ পান ৬০ শতাংশ। মমতা সরকারের আমলে রাজ্য সরকারি ও সরকার পোষিত কর্মীরা পেতেন ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ কেন্দ্রের সঙ্গে ফারাক ছিল ৪২ শতাংশ। এবার এক সঙ্গে ২০ শতাংশ দেওয়ায় সরকারি কর্মীরা পাবেন মোট ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ কেন্দ্রের সঙ্গে ফারাক কমে হল  ২২ শতাংশ। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ২০২৭-এর জানুয়ারিতে কার্যকর হবে সপ্তম পে কমিশন। কিন্তু তা জন্য ডিএ ৫০ শতাংশ হওয়া আবশ্যক। তাই মনে করা হচ্ছে ডিসেম্বরের মধ্যেই আরও ১২ শতাংশ ডিএ পাবেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। 

    এদিন বামেদের ৩৪ বছরের শাসনকালে চিরকুটে চাকরি দিয়ে যোগ্যদের বঞ্চিত করা হয়েছে, কলকারখানা বন্ধ হয়েছে, সরকারি কর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও মন্তব্য করলেন শুভেন্দু। বুঝিয়ে দিলেন, বাম হোক বা তৃণমূল, কেউই ভাবেনি সরকারি কর্মীদের কথা। কিন্তু শুভেন্দু ঠিক বন্ধুর মতো তাঁদের পাশে রয়েছেন। তাই একধাক্কায় ২০ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করা হয়েছে। সপ্তম পে কমিশনের কমিটি গঠিত হয়েছে। জানুয়ারিতেই তা কার্যকরও হবে। ২০২৮-২০২৯ অর্থবর্ষে অষ্টম পে কমিশনও দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিলেন শুভেন্দু। সরকারি কর্মীদের তাঁর সাফ বার্তা, তিনি পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)