• কর্মসংস্থানে ‘ত্রিশক্তি’ শুভেন্দুর, সিন্ডিকেটরাজ রুখতে আইন আনার প্রস্তাব স্বপনের
    প্রতিদিন | ২২ জুন ২০২৬
  • বাংলায় বিজেপি সরকারের প্রথম অর্থবাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বাজেট পেশের কয়েকদিন আগেই কর্মসংস্থান নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। যেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কর্মসংস্থানে সুযোগ বৃদ্ধিতে তাঁর সরকার ত্রিফলা নীতি নেবে। যার মধ্যে ছিল স্বচ্ছ নিয়োগ, শিল্পে বিনিয়োগ টেনে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ ঘটানো। এজন্য ঋণ এবং আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথম বাজেটে সেই দিশাই কার্যত তুলে ধরা হল। শুধু তাই নয়, বাজেট শেষে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যেও উঠে এল ‘ত্রিশক্তি’র কথা। পাশাপাশি সিন্ডিকেট রুখতে নয়া আইন আনার প্রস্তাবও দেওয়া হল বাজেটে (Bengal Budget 2026)।

    বাজেট শেষে বঙ্গ বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যেখানে ত্রিশক্তির ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ”কর্মসংস্থানে ত্রিধারা বা ত্রিশক্তি নিয়ে অনেক দিন ধরেই বলে আসছি। এর প্রথমেই রয়েছে সরকারি কর্মসংস্থান। যেখানে শিক্ষক, অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মী, পুলিশ, বন কর্মী-সহ একাধিক শূন্যপদ রয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, ”এক লক্ষ কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়েছে। ২০ হাজার পুলিশে, ৫০ হাজার শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী রয়েছেন। বাকি ৩০ হাজার নিয়োগ করা হবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ফাঁকা থাকা শূন্যপদে।” নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে কোনও রাজনৈতিক লোককে নিয়োগ কমিটিতে রাখা হচ্ছে না। এক্ষেত্রে কেন্দ্রের ইউপিএসসিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ফলো করবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের নিয়োগে দুর্নীতির কথাও তুলে ধরেন। জানান, ”চাকরির যে দুর্নীতি হয়েছে। আগামিদিনে বাংলার নতুন প্রজন্ম রক্ষা পাবে। এটা বড় দিক।” শুভেন্দু সরকারের ত্রিশক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে বেসরকারি শিল্প। ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”এর মধ্যে রয়েছে ফুড প্রক্রিয়াকরণ এবং ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প রয়েছে। সেখানে ব্যাপক বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ১০০ কোটি টাকার বেশি যারা বিনিয়োগ করবেন, তাঁদের পঞ্চায়েত কিংবা স্থানীয়ভাবে কোনও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।” তাঁর দাবি, এক্ষেত্রে রাজ্যস্তরে চুক্তি হয়, জমির ব্যবস্থা দেওয়া হয়। ব্যাঙ্ক থেকে লোন নেওয়ার পর দেখা যায় জমি-সহ বিভিন্ন অজুহাতে তোলা চাওয়া হয়। এক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে বিনিয়োগকারীরা। আর তা ঠেকাতেই এহেন সিদ্ধান্ত বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী আগামিদিনে সিন্ডিকেটরাজ রুখতে কড়া আইন আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে স্বপন দাশগুপ্তের বাজেটে।

    ‘ত্রিশক্তি’র তৃতীয় ধাপে রয়েছে নতুন প্রজন্মকে বিভিন্ন সাহায্য করা। শুভেন্দু জানান, ব্যবসা এবং ভর্তুকি কেন্দ্রিক সুবিধা। যে সমস্ত শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা স্কিল ট্রেনিং নেওয়ার পর ব্যবসা করতে চান তাঁদেরকে সাহায্য করা হবে। এক্ষেত্রে পিএম মুদ্রা যোজনা, বিশ্বকর্মার মাধ্যমে ভর্তুকি দেওয়া হবে। এর ফলে রাজ্যে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে যাবে বলে মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী।
  • Link to this news (প্রতিদিন)