এবার কলকাতায় ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে দোকানপাট! বাজেটে বড় প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী স্বপনের
প্রতিদিন | ২২ জুন ২০২৬
বড় প্রস্তাব রাজ্য বাজেটে। এবার থেকে কলকাতায় ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে দোকানপাট। অফিস, লজিস্টিক পরিষেবা ও হসপিটালিটি প্রতিষ্ঠানও খোলা থাকবে গোটা দিন। রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর প্রথম জনমোহিনী বাজেট। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এদিন বিধানসভায় বাজেট (West Bengal State Budget) পেশ করেন। সেখানেই এই ঘোষণা হয়েছে। কর্মসংস্কৃতি বাড়ানো ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব। এই সংস্কারের ফলে অর্থনৈতিক উন্নতিও হবে। এমন কথা মনে করা হচ্ছে।
আজ, সোমবার বিধানসভায় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের বড় বার্তা দেওয়া হয়েছে। সামাজিক প্রকল্প থেকে শিক্ষা, বাস্থ্য, কৃষি ও পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭৫.২৯ কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এইমস থেকে রাজ্যের হাসপাতালগুলিকে সুপার স্পেসালিটে পরিণত করা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জন সাধারণের স্বাস্থ্য ইন্সুরেন্স তথা আয়ুষ্মান ভারতের মতো সামাজিক প্রকল্প কার্যকর করা হয়েছে। কৃষি পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। রাজ্যের লক্ষ লক্ষ নাগরিকের জীবিকার প্রাথমিক উৎস। কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, প্রযুক্তি-সক্ষম করে তোলার উদ্দোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এছাড়াও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের ফান্ড সহায়তায় ১,৩৫৩ কোটি টাকা মূল্যের প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মরা নদীখাতগুলি খনন করে মূল নদীগুলির যুক্ত করা হবে।
শুধু তাই নয়, কলকাতার দোকানপাট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার জন্য এদিন বড় বার্তা দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের শ্রম দপ্তর এবং পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৬৩ অনুযায়ী দোকান খোলা ও বন্ধ রাখার নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল। সাধারণ দোকানপাট সকাল ৮টার আগে খোলা যাবে না। রাত ১০টার পরে ওইসব দোকান খোলা রাখা যাবে না। ওইসব দোকানে কাজ করা একজন কর্মী দিনে সাড়ে ৮ ঘণ্টা কাজ করবেন। সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করবেন। সেই সময়সীমার বদল করা হল। এবার থেকে ২৪ ঘণ্টা দোকানপাট খোলা থাকবে। সংশোধনী ও সংস্কার এনে শ্রমসুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এক্ষেত্রে রেস্তরাঁ, দোকান, অফিস, লজিস্টিক পরিসেবা, হসপিটালিটি প্রতিষ্ঠান ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আপাতত কলকাতা ও বড় বড় শহরগুলিতে পাইলট আকারে এই নিয়ম চালু হবে। আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে সেটি চালু হতে পারে।
এমন হলে অর্থনীতি শ্রমিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা বজায় রেখে রাজ্যের শহরগুলিতে অধিক কর্মসংস্থান, অধিক রাজস্ব বাড়বে। এছাড়াও অর্থনৈতিকভাবেও ওই সব অঞ্চল আরও বেশি করে গতিশীল হবে বলে খবর।