সরকার বদলের পরে সুন্দরবন আলাদা জেলা, রাজ্য বাজেট ঘোষণায় আর কী কী পেল? খুশির হাওয়া এলাকায়
News18 বাংলা | ২২ জুন ২০২৬
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে সুন্দরবন, বসিরহাট নতুন জেলা করা হবে বলে একাধিক সময় ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। রাজ্যে মসনদে বদল এসেছে। মানুষের রায়ে তৈরি হয়েছে বিজেপি সরকার। সরকার তাদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করছে। আর সেখানেই কলকাতা, বসিরহাট, সুন্দরবন, জঙ্গিপুর এবং আরামবাগকে নতুন জেলা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
এবার সুন্দরবন হবে আলাদা জেলা, রাজ্য বাজেটের এই ঘোষণায় বইছে খুশির জোয়ার। রাজ্য বাজেটে একই সঙ্গে নতুন পাঁচটি জেলা তৈরির প্রস্তাব পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এই পাঁচটি জেলার মধ্যে রয়েছে সুন্দরবন। বসিরহাট আলাদা জেলা হচ্ছে, সুন্দরবন ও আলাদা জেলা হচ্ছে। প্রশাসনিক এবং নিরাপত্তা জনিত সুবিধার জন্যই এহেন সিদ্ধান্ত। শুধু তাই নয়, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন। বলে দাবি অর্থমন্ত্রীর।
সুন্দরবন এলাকার প্রায় ৬০ কিলোমিটার প্রকৃতিনির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুননির্মাণ করার উদ্দেশ্যে সেন্ট্রাল স্পন্সরড স্কিম হিসাবে আনুমানিক ১০০০ কোটি টাকা ব্যায়ে সুন্দরবন এমবার্কমেন্ট রিকনস্ট্রাকশন বাস্তবায়িত হবে। ফলে সুন্দরবনের নদী বাঁধ সমস্যাও মিটবে।
প্রাশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য সুন্দরবন পুলিশ জেলা আলাদা রয়েছে। কিন্তু সেই পুলিশ জেলায় সুন্দরবনের একটা বড় অংশ নেই। গোসাবা, কুলতলি, বাসন্তী সহ সুন্দরবনের বড় এলাকা বারুইপুর পুলিশ জেলার মধ্যে পড়ে। অথচ অনেকেই মনে করেন এই এলাকাগুলি সুন্দরবনের প্রধান অংশ। সেই সমস্যা এবাব মিটবে।
সুন্দরবনে জলপথ যোগাযোগেও বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সুন্দরবনের দুর্গম দ্বীপাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
জেটি ও সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
সুন্দরবনের ১০৪টি দ্বীপের মধ্যে ৫৪টিতে মানুষের বসবাস থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবিকার পরিষেবা পৌঁছে দিতে জলপথকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সৌরচালিত নৌকার ব্যবহার উৎসাহিত করা হবে, যাতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের পাশাপাশি কার্বন নি:সরণও কমানো যায়।
সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি সুন্দরবনের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও সহায়ক হবে।