• জেলার উন্নয়নের স্বার্থে এবার হেল্পলাইন নম্বর, বিশেষ ভাবনা নতুন সভাধিপতির
    News18 বাংলা | ২২ জুন ২০২৬
  • পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রায় তিন বছর পর পালা বদল হল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের। ৭০ আসন বিশিষ্ট পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় রাজ্যের বিগত শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পালা বদল হয়। রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসে।

    তারপর থেকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ চর্চায় ছিল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় তৃণমূল পরিচালিত এই জেলা পরিষদ কত দিন কাজ করবে সেই প্রশ্ন বারবার উঠছিল। এবার জেলা পরিষদে ক্ষমতা দখল করল বিজেপি। জেলা পরিষদের ক্ষমতা দখলের পর উন্নয়নের স্বার্থে বিশেষ হেল্পলাইন চালু করার কথা জানাল সভাধিপতি।

    পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে বিগত শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে ছিল। ২০২৩ সালের শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৭০ আসন বিশিষ্ট এই জেলা পরিষদের ৫৬ টি আসনে জয় লাভ করে তৃণমূলের প্রার্থীরা। কিন্তু রাজ্যে পালা বদলের পর পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং সহ-সভাধিপতি নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দেন। ভেঙে যায় জেলা পরিষদ বোর্ড। ২২ জুন নতুন করে জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহসভাধিপতি নির্বাচনের জন্য নোটিশ জারি করে প্রশাসন। ২২ জুন ভোটাভুটির মাধ্যমে জেলা পরিষদের নতুন সভাধিপতি এবং সহ-সভাপতি নির্বাচিত হল।

    সভাধিপতি হিসাবে জেলা পরিষদের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা বামদেব গুছাইতের নাম প্রস্তাবিত হয়। এবং জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি হিসাবে বাঁশরী পণ্ডিতের নাম প্রস্তাবিত হয়। এদিন জেলা পরিষদের সভাকক্ষে মোট ৬৫ জন জেলা পরিষদ মেম্বারের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিভাবে এই দু’জনকেই সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতি হিসাবে নির্বাচিত করা হয়। প্রসঙ্গত জেলা পরিষদে বিজেপির মাত্র ১৪ জন প্রতিনিধি রয়েছে। এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হওয়া ৪১ জন জেলা পরিষদ মেম্বার এই ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই ভোটাভুটির পর বিজেপি এই জেলা পরিষদ গঠন করল।

    জেলা পরিষদের সভাধিপতি দায়িত্ব পাওয়ার পর বামদেব গুছাইত জানান, “জেলার উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মত দিনে কুড়ি ঘণ্টা কাজ করব। ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় উন্নয়নের কাজ পরিবর্তন আনতে জেলা পরিষদ মেম্বার, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ও সভাধিপতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের নিয়ে আলাদা আলাদা হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ করা হবে। এর পাশাপাশি একেবারে নিচুস্তর থেকেও উন্নয়নের কাজে সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ শোনা হবে। সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ শোনার জন্য চালু করা হবে বিশেষ হেল্পলাইন নাম্বার।” পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের এই পালাবদল রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ প্রভাব ফেলবে মনে করছেন রাজনীতিবিদরা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)