সোমবার দক্ষিণ মুম্বইয়ের ওয়াই বি চ্যবন সেন্টারে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই দলবদলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। তাঁর সঙ্গেই সেখানে আসেন বিদ্রোহী ছয় শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে) সাংসদ। তাঁদের পাশে বসিয়ে শিন্ডে এই যোগদানকে ২০২২ সালের বিদ্রোহের ‘দ্বিতীয় পর্যায়’ বলেছেন।
তাঁর মতে, তাঁর শিবির একটি ‘ছক্কা’ মারল এ দিন। শিন্ডের আরও দাবি, এই ছয়জনের কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে এবং বালাসাহেব ঠাকরের আদর্শ রক্ষায় ‘আসল শিবসেনা’-য় যোগ দিলেন।
ওমরাজে নিম্বলকর ছাড়া এ দিন যে সাংসদরা উদ্ধবরে দল ছাড়লেন তাঁরা হলেন— সঞ্জয় যাদব, সঞ্জয় দেশমুখ, ভাউসাহেব ওয়াকচৌরে, নাগেশ পাটিল আষ্টিকর, এবং সঞ্জয় দিনা পাটিল। নাগেশ পাটিলকে এই দলবদলের ‘ওপেনিং ব্যাটসম্যান’ বলেন শিন্ডে। পাশাপাশি, তাঁর বাবার হত্যা মামলার তদন্তে ওমরাজে নিম্বলকরের পাশে থাকারও আশ্বাস দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী।
এই বিদ্রোহের আবহে ‘শিবালয়’-এ দলীয় বিধায়কদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন উদ্ধব ঠাকরে। সেখানে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য পুলিশের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। বৈঠকের পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে দলত্যাগী সাংসদদের তীব্র আক্রমণ করেন উদ্ধব-পুত্র আদিত্য ঠাকরে। তিনি বলেন, ‘ওঁরা বিদ্রোহী নন। ওঁরা ভীতু এবং বিক্রি হয়ে যাওয়া নেতা। BJP ওঁদের নিজেদের দলে টানছে যাতে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করে দেশের সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে।’
তিনি যা-ই বলুন না কেন, শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে) সাংসদদের এই সাম্প্রতিক দলবদল মারাঠা রাজনীতিতে উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের অস্তিত্ব নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিল। স্থানীয় নির্বাচনে দাদা রাজ ঠাকরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। কিন্তু ঠাকরে আবেগ ভোটবাক্সে কাজ করেনি। এ বার নয়জনের মধ্যে ছয়জন সাংসদের বিদায়ের ধাক্কা তিনি কী ভাবে সামলান সেটাই দেখার। এ দিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে ভাঙনের পরে শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে)-র এই ভাঙনে লোকসভায় আরও শক্তিশালী হলো NDA তথা মোদী সরকার।