জ্বলন্ত বিল্ডিং থেকে বাঁচতে কেউ জানলা দিয়ে লাফিয়ে পড়ছেন তো কেউ তার ধরে নীচে নামার চেষ্টা করতে গিয়ে পড়ে গেলেন সোজা রাস্তায়। সোমবার দুপুরে এমনই ভয়াবহ ঘটনা ঘটল উত্তরপ্রদেশের লখনৌয়ের আলিগঞ্জ এলাকায়। বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিন দুপুরে আলিগঞ্জের একটি কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ আগুন লাগে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাণিজ্যিক বিল্ডিংয়ের একাংশে। জানা গিয়েছে, উত্তর-পূর্ব লখনৌয়ের আলিগঞ্জের ওই কোচিং সেন্টারটি যথেষ্ট জনপ্রিয়। সব সময়ে সেখানে পড়ুয়াদের ভিড় লেগেই থাকে। এ দিন দুপুরেও বহু পড়ুয়া সেখানে পড়তে গিয়েছিলেন। ওই বিল্ডিংয়ের দোতলায় কোচিং সেন্টার, পাশে রয়েছে গেমিং জ়োনও। নীচে পেট শপও রয়েছে। ভয়াবহ এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। নিহতদের পরিবারের জন্য ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিল্ডিংয়ে আগুন লাগায় কোচিং সেন্টারে আসা বহু ছাত্রছাত্রী সেখানে আটকে পড়েন। আগুন ছড়িয়ে পড়তে প্রাণের ভয়ে অনেক পড়ুয়া দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়েন। কয়েকটি ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, ওই বিল্ডিংটি দাউ দাউ করে জ্বলছে। অনেক পড়ুয়া দোতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে নেমে পালানোর চেষ্টা করছেন। তাতে আহত হয়েছেন অনেকে। আগুন থেকে প্রাণ বাঁচাতে বহু ছাত্রছাত্রী জানলা দিয়ে গলে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কয়েকজনকে নিচে ঝাঁপ দিতেও দেখা যায়। ঘটনায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যুর হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে।
খবর পেয়ে দ্রুত দমকল, পুলিশ এবং উদ্ধারকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। একাধিক দমকল ইঞ্জিন মোতায়েন করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু হয়। আটকে পড়া পড়ুয়াদের বের করে আনতে উদ্ধার অভিযান চলছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বিল্ডিংয়ের ভিতরে আর কেউ আটকে আছেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কিছু পোষ্যকেও।
স্থানীয় সূত্র ও উদ্ধারকারী দলের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিল্ডিংয়ের ভিতরে কোচিং ক্লাস চলাকালীন আচমকা আগুন ও ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং ছড়িয়ে পড়ে আগুন। তাতে ভিতরে থাকা ছাত্রছাত্রী ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ধোঁয়া দ্রুত উপরের তলায় পৌঁছে যাওয়ায় অনেকেই সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারেননি। ফলে আগুন থেকে বাঁচতে জানলা দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। তাতেও অনেকে গুরুতর আহত হন। একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, এক পড়ুয়া দোতলার ভাঙা জানলা দিয়ে কার্নিশে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু টাল সামলাতে না পেরে নীচে পড়ে যান। এ ভাবে কমপক্ষে পাঁচ থেকে সাত জন হাত-পা ভেঙে গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর।
প্রাথমিকভাবে আগুনের কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তবে শর্ট সার্কিট বা বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। ঘটনাস্থলের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।