পরিবর্তনের রাজ্যে কেমন হবে বাঙালির দুর্গোৎসব? সোমবার বিজেপি সরকার তাদের প্রথম বাজেটেই এ নিয়ে তাদের পরিকল্পনা স্পষ্ট করে দিল। দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে বাংলার পর্যটনকে আলাদা ভাবে ব্র্যান্ডিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। শুধু পর্যটনই নয়, এর সঙ্গে জুড়ে থাকবে বাংলার শিল্প, সংস্কৃতিও। পাশাপাশি দার্জিলিং, সুন্দরবন, গঙ্গাসাগর, ঝাড়গ্রামে পর্যটনকে আরও চাঙ্গা করতে একাধিক বড় পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
পর্যটনকে ঢেলে সাজাতে ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির সংরক্ষণ ও তার প্রসার ঘটানোরও উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। নতুন করে হেরিটেজ কমিশন তৈরি করা হবে। তালিকায় আছে কালীঘাট, তারাপীঠের বিখ্যাত কালীমন্দির, মদনমোহন মন্দির, জল্পেশ মন্দির, ঠাকুরনগর ঠাকুর বাড়ি, কল্যাণেশ্বরী, তারকেশ্বর, কঙ্কালীতলা, কিরিটেশ্বরী ও বিভিন্ন শক্তিপীঠ। আধ্যাত্মিক পর্যটনকে সাজাতে ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’ তৈরি করা হবে।
উত্তরের দার্জিলিংকে একটি প্রধান ইকো-অ্যাডভেঞ্চার এবং ঐতিহ্য বহনকারী পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলারও লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ট্রেকিং, হাইকিং, র্যাফটিং, প্যারাগ্লাইডিং-এর মতো অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসগুলির প্রসার ঘটানো হবে। ‘টুরিজম মাস্টার প্ল্যান’ তৈরি করে একটি শক্তিশালী পর্যটন ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ডুয়ার্সকেও সাজানো হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে গাইড-সহ ভ্রমণে (Guided Tours)।
পুরুলিয়া জেলায় অযোধ্যা পাহাড়, মুরগুমা, খয়রাবেড়া, বড়ন্তির (সাত্তুরি) মতো অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র, গড়পঞ্চকোট ইকো টুরিজ়ম (রঘুনাথপুর)-কে যুক্ত করে একটি ইন্টিগ্রেটেড টুরিজ়ম সার্কিট গড়বে রাজ্য। ঝাড়গ্রাম জেলায় জঙ্গলমহল চিড়িয়াখানায় Tiger Safari হবে। ১৬০ একর জমির উপরে তা তৈরি করা হবে। এর ফলে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে এবং সংলগ্ন অঞ্চলগুলিতে পর্যটন সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। এর জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সুন্দরবনে ইকো-রিসোর্ট, নদী পর্যটন, ভাসমান গ্ল্যাম্পিং (Floating Glamping), বিশেষ পর্যটন জেটি, ই-ভেসেল বা বৈদ্যুতিক জলযানের ব্যবস্থা করা হবে। ‘টুরিজম মাস্টার প্ল্যান’ তৈরি করে একটি মজবুত পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
গঙ্গাসাগর মেলাকে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক, আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একই ভাবে জগদ্ধাত্রী পুজো, তারকেশ্বর মেলা, বারুণী মেলা, রাস মেলা, জল্পেশ মেলা এবং এই ধরনের অন্যান্য উৎসবকে জাতীয় উৎসবে রূপান্তরিত করা হবে।
এ দিন বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সেখানেই তিনি জানান, দুর্গাপুজো পশ্চিমবঙ্গকে বিশ্বজনীন সাংস্কৃতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ করে দেবে। ‘দুর্গাপুজো এক বিশ্বজনীন উৎসব, বাংলার চিরন্তন আবেগ’— সেই সুরকে সামনে রেখেই সরকার পর্যটন ব্র্যান্ডিং অভিযান শুরু করতে চলেছে।
এর মাধ্যমে থিমভিত্তিক প্যান্ডেলের জাঁকজমক, ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান, শিল্প, সঙ্গীত ও সাম্প্রদায়িক উৎসব উদযাপনের বৈচিত্র্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা হবে। দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ পর্যটন সার্কিট, সুচিন্তিত উৎসবভিত্তিক অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক প্রচার অভিযান, ডিজিটাল গাইডের ব্যবস্থা থাকবে। ভ্রমণ সংস্থাগুলিকেও এর অংশীদার করা হবে।