এক ধাক্কায় 20% বেড়ে 38% হল মহার্ঘ ভাতা, বর্ধিত হারে DA মিলবে অক্টোবর থেকে
eTV Bharat | ২২ জুন ২০২৬
কলকাতা, 22 জুন: বিধানসভায় রাজ্য সরকারের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ৷ বাজেট বক্তৃতার শুরুতেই তিনি বললেন, “আমরা জাগরিত শক্তির প্রেরণার ভিত্তিতে আমাদের বাজেট রূপরেখা তৈরি করেছি।” বাজেটে মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণাতেও তারই ইঙ্গিত মিলল ৷
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা 20 শতাংশ বৃদ্ধি করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা 18 শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পান। অর্থাৎ, মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ বে়ড়ে 38 শতাংশ হল। আগামী 1 অক্টোবর থেকে এই বর্ধিত হারে ডিএ কার্যকর হবে।
দুর্গাপুজোর ঠিক দোরগোড়ায় এই আর্থিক সুবিধা কর্মীদের হাতে আসায় উৎসবের মরসুমে সরকারি কর্মীদের আনন্দ ও উৎসবের জৌলুস বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।এই মেগা প্যাকেজ ঘোষণার ফলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ্যের কর্মীদের মহার্ঘ ভাতার যে বিপুল এবং দীর্ঘস্থায়ী ফারাক ছিল, তা প্রায় মুছে যাওয়ার পথে।
তবে এই মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি করা হলেও এখনও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ্যের কর্মীদের মহার্ঘ ভাতার ফারাক রয়ে গেল। কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মীরা বর্তমানে 60 শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পান। আগে এর পরিমণ ছিল 58 শতাংশ। তবে সম্প্রতি তাদের মহার্ঘ ভাতা বাড়ানো হয়েছে। সেই হিসাবে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতার সঙ্গে কেন্দ্রের ফারাক এখনও 22 শতাংশ রয়ে গেল।
উল্লেখ্য, বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা 42 শতাংশ হারে ডিএ পেয়ে থাকেন। রাজ্যে নতুন এই বাজেট ঘোষণার পর ডিএ-র অঙ্ক 38 শতাংশের ঘরে পৌঁছানোয় কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের মহার্ঘ ভাতার ব্যবধান এখন কমে দাঁড়াল মাত্র 22 শতাংশে। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে এই মহার্ঘ ভাতার বৈষম্য নিয়েই রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল আলোড়ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
অতীতে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের জমানায় মহার্ঘ ভাতা প্রদান নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের তীব্র সংঘাত ও টানাপোড়েন চলেছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার রাজ্যের কোষাগারের বেহাল আর্থিক দশার কথা তুলে ধরে কেন্দ্রের সমতুল হারে ডিএ দিতে বারবার নিজেদের স্পষ্ট অসম্মতি প্রকাশ করেছিল। কর্মীদের প্রাপ্য অধিকারের এই দাবি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ায়। রাজপথে দিনের পর দিন ধর্না, অবস্থান এবং আইনি লড়াইয়ের সাক্ষী থেকেছে গোটা রাজ্য। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বর্তমান রাজ্য প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে এক বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক 'মাস্টারস্ট্রোক'।
রাজ্য কোষাগারের ওপর এর ফলে বিপুল চাপ সৃষ্টি হলেও সরকার যে পিছপা হতে রাজি নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন খোদ অর্থমন্ত্রী। বিধানসভায় বাজেট বক্তৃতা রাখার সময় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত সরকারি কর্মীদের অবদানের কথা অকপটে স্বীকার করে নেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, "সরকারি কর্মচারীরা হলেন রাজ্য প্রশাসনের মূল স্তম্ভ। তাঁদেরকে প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে কোনও রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাজ্য কোষাগারের ওপর বড়সড় আর্থিক চাপ পড়লেও কর্মীদের স্বার্থ ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি।"
বঙ্গের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটেই এই বিপুল অঙ্কের ডিএ প্রদানের মতো সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন শাসক দল তাদের সদিচ্ছা ও প্রতিশ্রুতির যে চূড়ান্ত প্রমাণ দিল, তা আগামী দিনে রাজ্যের গোটা প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও গতিশীল করে তুলবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।