কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে নজর তো ছিলই, রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হলো বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে। একাধিক রোড করিডর নির্মাণ, নতুন সেতু, হাইওয়ে, বিমাবন্দরে নির্মাণের ভাবনার উল্লেখ রয়েছে এ বারের বাজেটে।
যোগাযোগ পরিকাঠামোকে একটি দেশের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একদিকে, মসৃণ যোগাযোগ ব্যবস্থা কৃষিপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং উৎপাদিত দ্রব্য সহজে ও কম খরচে বাজারে পৌঁছতে সাহায্য করে। উন্নত সড়ক, রেল ও নৌপথের কারণে শহর এবং গ্রামের মধ্যে দূরত্বের বাধা দূর হয়। কৃষি, শিল্পের পাশাপাশি পরিষেবামূলক সুবিধাও জনগণের আয়ত্তে আসে। সেই কথা মাথায় রেখে কী কী ঘোষণা হলো—
ইতিমধ্যেই Eastern Dedicated Freight Corridor-এর মাধ্যমে ডানকুনি ও লুধিয়ানাকে জুড়তে চলেছে রাজ্য সরকার। অন্ডাল ও ডানকুনির মধ্যে শেষ পর্যায়ে কাজে জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি ডানকুনিকে মাল্টিমোডাল লজিস্টিক হাব তৈরি করার প্রয়াস করবে।
চিংড়িঘাটা থেকে নিউটাউন পর্যন্ত এলিভেটেড করিডর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭.৪১ কিমি দীর্ঘ করিডর নির্মাণ হবে। এই করিডর সল্টলেক সেক্টর ৫ এবং ইএম বাইপাসকে যুক্ত করবে।
হুগলি জেলায় ডানকুনি জংশন ও মগরার মধ্যে একটি করিডর গড়ে তোলা হবে। যার মধ্যে থাকছে তিন লেন বিশিষ্ট বৈদ্যবাটি ROB, পাঁচটি ফ্লাইওভার, ১২টি ভেহিকুলার আন্ডারপাস, সার্ভিস রোড, পার্কিং বে-সহ অন্যান্য সুবিধা থাকবে।
বীরভূম জেলায় ময়ূরাক্ষী নদীর উপরে চার লেনের ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।
নন্দীগ্রাম ও হলদিয়ার মধ্যে সংযোগকারী সেতু নির্মাণ করা হবে।
মুড়িগঙ্গা সেতু নির্মাণের ভাবনাও রয়েছে। প্লান্ট ও মেশিনারি সংগ্রহের জন্য ও জমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে।
তাজপুরে একটি বন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল গত সরকারের। সেই পরিকল্পনা বাতিল করে পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে পিপিপি মডেলে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ে তোলা হচ্ছে।
কালনা ও শান্তিপুরের মধ্যে ভাগীরথী প্রধান সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। এর জন্য মোট ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
কলকাতায় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কল্যাণীতে এই বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
পুরুলিয়া,মালদা ও বালুরঘাটে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সহায়তায় বিমানবন্দর তৈরি করা হবে।
কোচবিহার এয়ারপোর্টটি সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি হাসিমারা এয়ারফোর্স স্টেশনকে কোলাইকুণ্ডা এয়ারফোর্স স্টেশনকে যথাক্রমে ২৫ ও ৩৭ একর জমি দেওয়া হচ্ছে।