কলকাতার সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম বদলে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ রাখার কথা ঘোষণা করেছে কলকাতা পুরসভা। তা নিয়ে রবিবার পুর কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে সমাজমাধ্যমে তিনি যা লিখেছিলেন, তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেধেছে। সবটাই হয়েছে নাম বিভ্রাটে। সেই বিতর্কের পরে প্রথম বার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী।
সোমবার বিধানসভায় বাজেট ঘোষণার পরে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে সুরাবর্দি বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, ‘বেশ করেছি। কোনও নাম-নিশানা থাকবে না। আগামী দিনে সেকুদের যেগুলো আছে, সেগুলোও দেখা হবে।’
প্রসঙ্গত, এক্স হ্যান্ডলে মুখমন্ত্রী লিখেছিলেন, ‘কয়েক দশক ধরে আমাদের শহরের একটি প্রধান সড়কের নাম এমন এক জনের নামে ছিল, যিনি নিছক রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রক্ষমতাকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে নিরপরাধ নাগরিকদের উপর গণহত্যা চালিয়েছিলেন। হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষের জীবন রক্ষায় যিনি প্রধান রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন, সেই নির্ভীক ব্যক্তিত্ব গোপাল মুখার্জির নামে এই সড়কের নামকরণের মাধ্যমে এক জন প্রকৃত অভিভাবক ও ত্রাণকর্তাকে সম্মান জানানো হবে এবং এর ফলে অবশেষে ঐতিহাসিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘এখন সময় এসেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত নায়কদের কথা স্মরণ করার, ভুল সংশোধনের এবং তাঁদের যথাযথ সম্মান জানানোর।’
রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিমত, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ‘সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ’ নামটির সঙ্গে যে ‘সুরাবর্দি’র যোগসূত্র খুঁজেছেন, তা সম্ভবত সঠিক নয়। রাজনৈতিক মহলের এই অংশের মত, শুভেন্দু সম্ভবত হোসেন শহিদ সুরাবর্দির কথা বলতে চেয়েছেন, যিনি ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’-এর অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী বলে চিহ্নিত। এই সুরাবর্দিই স্বাধীনতার আগে অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নামকরণ হোসেন শহিদ সুরাবর্দির নামে করা হয়নি। নামকরণ হয়েছে স্যর হাসান সুরাবর্দির নামে।
ভাষাবিদ, সংস্কৃত পুঁথির সংগ্রাহক, আর্ট হিস্টোরিয়ান এবং শিল্প সংগ্রাহক হাসান সুরাবর্দি ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া রেলের প্রথম চিফ মেডিক্যাল অফিসার। নামকরা সার্জেন হাসানই দেশের দ্বিতীয় মুসলিম এফআরসিএস। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম বাঙালি সহ-সভাপতি। ব্রিটিশ মিলিটারি অফিসারের দায়িত্বেও ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমন্ত্রণে ভাষাবিদ হাসান সুরাবর্দি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নিজাম অধ্যাপক’ পদে যোগ দেন। ১৯৩০–এর ৮ অগস্ট থেকে ১৯৩৪–এর ৭ অগস্ট পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও ছিলেন তিনি। তিনিই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম উপাচার্য।