• একাধিক খাতে ‘সেন্ট্রাল টাচ’, ‘ডাবল ইঞ্জিন’ মডেলে জোর— বাজেটের ধারায় বদল?
    এই সময় | ২৩ জুন ২০২৬
  • ১৯৭৭ সাল। দীর্ঘ কংগ্রেস জমানার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় বাম শাসন। পরিবর্তন দেখেছিল দেশও। ভারত সরকারের দায়িত্বে আসে প্রথম অকংগ্রেসি ‘জনতা পার্টি’র সরকার। পালাবদলের উচ্ছ্বাসের পিছনে চাপা পড়ে যায় ‘ডাবল ইঞ্জিন’-এর ইতিহাস। মাঝে প্রায় ৪৯টি বছর। রাজ্যে ও কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল একই। নির্বাচনী লড়াইয়ে বারবার রাজ্য বিজেপির নেতারা বুঝিয়ে গিয়েছেন, ‘একবার বদলে দেখুন, ডাবল ইঞ্জিনের সুবিধা নিয়ে দেখুন।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, ডাবল ইঞ্জিনের সরকার থাকলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমে, আর্থিক সহায়তার ব্যাপারে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। যে কোনও উন্নয়নমূলক প্রস্তাবে ‘ক্লিয়ারেন্স’-এ সবুজ সংকেত মেলে দ্রুত। সেই ছাপ দেখা গেল অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তরের পেশ করা প্রথম বাজেটে।

    পদ্ম সরকারের শপথের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার কাজ শুরু হবে দ্রুত। গত সরকারের আমলে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প রাজ্যে বলবৎ না করার অভিযোগ ছিল। সেই বাধা দূর হয়েছে তো বটেই, রাজ্য বাজেটে ঘোষিত একাধিক প্রকল্প রূপায়িত হবে কেন্দ্রের হাতে হাত রেখে। দেখে নেওয়া যাক একনজরে।

    ১) কৃষকরা ঋণ পাওয়ার জন্য RBI Unified Lending Interface-এর সুবিধা পাবেন। ফলত ডিজিটাল কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ১৫ দিনের বদলে ১৫ মিনিটে ঋণ অনুমোদনের সময়সীমা পাওয়া যাবে।

    ২) যে অঞ্চলে কৃষিকাজের জন্য সারের ব্যবহার বেশি, সেখানে PM National Mission on Natural Farming-এর প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাকৃতিক উপায়ে চাষে উৎসাহ প্রদান করা হবে।

    ৩) কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে PM Dhandha ne krishi yojana চালু করা হচ্ছে। আলিপুরদুয়ার, ঝাড়গ্রাম, দার্জিলিং ও পুরুলিয়ায় এই প্রকল্প চালু হচ্ছে।

    ৪) খাদ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে PM-AASHA প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া হচ্ছে।

    ৫) চাষিদের জন্য থাকছে প্রধানমন্ত্রীর ফসল বিমা যোজনার সুবিধাও।

    ৬) পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ভূ-পৃষ্ঠস্থ ও ভূ-গর্ভস্থ মাইক্রো-সেচ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য PM-KUSUM প্রকল্পের সহায়তা নেওয়া হবে।

    ৭) আধুনিক মৎস্য বীজ উপাদান কেন্দ্র, মৎস্য উৎপাদন খামার, কোল্ড চেন ব্যবস্থা, মৎস্যজীবীদের আয়বৃদ্ধিতে Pradhan Mantri Matsya Sampada Yojana-র অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালুর কথা আগেই ঘোষণা হয়েছে। এর পাশাপাশি PMBJP (প্রধামনমন্ত্রী ভারতীয় জনৌষধি যোজনা) চালু হচ্ছে।

    ১) রাজ্যের তফসিলি অধ্যুষিত গ্রামগুলিকে ‘আদর্শ গ্রাম’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তার জন্য রয়েছে ‘PM-AJAY’ প্রকল্প। রাজ্যের ১৫০০ থেকে ২০০০ গ্রামকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। তফসিলি জাতির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্যেই এই প্রকল্প।

    ২) আদিবাসী উন্নয়নে নজর দেওয়া হয়েছে ঝাড়গ্রাম-সহ রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে। ভারত সরকারের সহায়তায় ঝাড়গ্রামে জীবিকার মানোন্নয়নে একটি সার্বিক প্রকল্প চালু হবে। পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামগুলিতে শুরু হবে DAJGUA প্রকল্প।

    স্থায়ী পরিকাঠামো উন্নয়নেও কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তা বড় সুবিধা এনে দেয়। সেই কথা মাথায় রেখে SASCI অর্থাৎ Scheme for Special Assistance to States fir Capital Investment-এর আওতায় ১০ হাজার কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার দাবি করবে।

    পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের ‘পূর্বদয় প্রকল্প’ রয়েছে। সেই প্রকল্পের বাস্তবায়নে ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর, ম্যানুফ্যাকচারিং হাব, পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে।

    কলকাতা ছাড়াও রাজ্যের একাধিক শহরে মেট্রোপথ চালুর কথা আগেই জানানো হয়েছে। বাজেটে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দুর্গাপুর থেকে আসানসোল এবং শিলিগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ি পর্যন্ত মেট্রো প্রকল্পের জন্য টেকনো-ইকনোমিক স্টাডি করতে চলেছে রাজ্য।

    কেন্দ্রের রেল মন্ত্রকের সহায়তায় লেভেল ক্রসিং তুলে দিয়ে ‘Road Over Bridges’ নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে। এর জন্য ৭০টি জাগায় চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র প্রদান করেছে।

    কেন্দ্রীয় সরকারের UDAN প্রকল্পের সাহায্যে রাজ্যে নতুন বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা। নতুন বিমানবন্দর পেতে চলেছে— পুরুলিয়া, বালুরঘাট ও মালদা।

    কেন্দ্রের PM-SHRI প্রকল্পের অধীনে ৬০:৪০ অনুপাতে রাজ্যের নির্বাচিত স্কুলগুলির গুণগত মান, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে মডেল স্কুল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। রাজ্য এই খাতে ইতিমধ্যেই ২,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করছে।

    এর পাশাপাশি কেন্দ্রের সহায়তায় উত্তরবঙ্গে একটি IIT এবং একটি IIM গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। NITI আয়োগের রাজ্যের ১০০০ স্কুলে Atal Tinkering Lab তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেখানে ওয়ারশ, রোবোটিক্স, কোডিং ক্লাস ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি রাজ্যের ITI গুলির উন্নয়নের জন্য PM-SETU প্রকল্পের সাহায্য নেওয়া হবে।

    রাজ্যের ক্রীড়া সংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য চালু হচ্ছে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্প। এর মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি করে মিনি স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে।

  • Link to this news (এই সময়)