খনি অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত আসানসোল রেলওয়ে ডিভিশন। এই রেলওয়ে করিডোরের খোলনলচে বদলে দিতে নিঃশব্দেই সেরে ফেলা হল বড় কর্মযজ্ঞ। গত ১ মে থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত কোমর বেঁধে নেমে ট্র্যাকশন ডিস্ট্রিবিউশন এবং ওপরের বৈদ্যুতিক তারের পরিকাঠামোকে আপগ্রেড করে ফেলেছে আসনসোল ডিভিশন।
দেরিতে ট্রেন আসার তকমা ঘোচাতে এবং লাইনে ঘন ঘন পাওয়ার কাটের ঝক্কি দূর করতেই রেলের এই কর্মকাণ্ড। রেলের সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যস্ত লাইনে প্রায় ২০ কিলোমিটারের বেশি পুরনো ও ক্ষয়ে যাওয়া বিদ্যুৎবাহী তার বদলে ফেলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলন্ত ট্রেনের গতি ধরে রাখতে ৪.৪ কিলোমিটার পুরনো ক্যাটেনারি তারও পাল্টেছে রেল।
যাঁরা প্রায়ই আসানসোল-দুর্গাপুরের লাইনে ডেলি প্যাসেঞ্জারি করেন, তাঁদের অভিযোগ মাঝেমধ্যে ওভারহেড তার ছিড়ে যাওয়ার কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। পরিকাঠামোর এই আধুনিকীকরণের ফলে সময় মত ট্রেন পৌঁছবে বলেই আশা প্রকাশ করা হয়েছে রেলের তরফ থেকে। যা এই অঞ্চলে যাতায়াত করা অফিসযাত্রী, পড়ুয়া থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রী, সকলের জন্য বড় সুখবর।
উল্লেখ্য, শিল্পাঞ্চলের এই রেল রুটে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। এছাড়াও মালবাহী ট্রেনের চাপও থাকে। তাই সুরক্ষায় যাতে বিন্দুমাত্র ফাঁক না থাকে, তার জন্য ৫৭টি পুরনো ওএইচই খুঁটি উপড়ে ফেলে বসেছে নতুন আধুনিক স্ট্রাকচার। সঙ্গে ২২টি ব্যাকডেটেড ইলেকট্রিক্যাল আইসোলেটর বদলে লাগানো হয়েছে ১৬০০ অ্যাম্পিয়ারের সুপার-ফাস্ট আইসোলেটর। যার ফলে সবমিলিয়ে ট্রেনের গতি বাড়বে, বাড়বে সুরক্ষা। একইসঙ্গে যাত্রীদের হয়রানি অনেকটা কমবে।