• চোখের সামনে মৃত্যু, তিনতলা থেকে মরিয়া ঝাঁপ! স্বজনহারার কান্নায় ভারী লখনৌয়ের বাতাস
    এই সময় | ২৩ জুন ২০২৬
  • ঘটনাস্থলে নিজের ভাইপোকে খুঁজছিলেন রাজেশ কুমার। তাঁর ভাইপোও গেমিং জ়োনে কাজ করেন। কিন্তু ঘটনার পর থেকে তার কোনও খবর পাননি তাঁরা। তিনি বলেন, ‘আগুনের খবর পাওয়া মাত্রই আমরা দ্রুত রওনা হই এবং এক ঘণ্টার মধ্যে এখানে পৌঁছই। এসে দেখি উপরের তলায় বেশ কয়েকজন তরুণ আটকে পড়েছে। তাদের কেউ কেউ প্রাণ বাঁচাতে ভবন থেকে লাফও দিয়েছে।’

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ঘটনার একটি ভিডিয়োতে (ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় অনলাইন) দেখা গিয়েছে, জ্বলন্ত ভবনের একটি ভাঙা জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন এক ব্যক্তি। তাঁর চারপাশে ঘন ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা। নীচে নামার সময়ে তিনি ভবনের একটি কার্নিশ ধরে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর হাত ফসকে যায় এবং তিনি একটি বেড়ায় ধাক্কা খেয়ে মাটিতে আছড়ে পড়েন। নীচে থাকা লোকজন দ্রুত তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। জানা গিয়েছে, অতটা উপর থেকে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

    আগুনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে বহু পড়ুয়া পালানোর পথ না পেয়ে বাথরুমে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। ভিতরে আটকে পড়া এক ছাত্রের দাদা, শাকিল আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার ছোট ভাই ভিতরে আটকে গিয়েছে। ও আমায় একটা মেসেজ পাঠিয়ে জানিয়েছিল, আগুন আর ধোঁয়া থেকে বাঁচতে ও ওয়াশরুমের দিকে ছুটে যাচ্ছে। তারপর থেকে আর কোনও খবর পাইনি।’

    ঘটনার বেশ কিছু সময় কেটে যাওয়ার পরেও স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। চোখের সামনে এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে এখনও শিউরে উঠছেন তাঁরা। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমি পৌঁছে দেখি বিল্ডিং থেকে গলগল করে কালো ধোঁয়া বেরোচ্ছে। কিছু ছাত্রকে আগেই বাঁচানো হয়েছিল, ৪-৫ জন কোনও রকমে নিজেদের চেষ্টায় বেরিয়ে আসে।’

    অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘সম্ভবত কোনও স্ফুলিঙ্গ থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত। প্রাণ বাঁচাতে ৭-৮ জন ছাত্র আমার চোখের সামনেই ওপর থেকে ঝাঁপ দিয়েছে।’ ঘটনাস্থলের কাছে থাকা এক মহিলা জানান, সেই সময়ে ভিতর থেকে শুধুই চিৎকার আর কান্নার শব্দ পেয়েছেন। হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল ভিতরে আটকে থাকা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে।

    শেষ পর্যন্ত দমকলের ৮টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বেশ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এক পর্যায়ে আটকে থাকা ছাত্রছাত্রীদের উদ্ধার করতে ভবনটির একপাশের দেওয়াল ভেঙে ফেলেন দমকলকর্মীরা। ভিতর থেকে ২০ জনের বেশি পড়ুয়াকে তাঁরা উদ্ধার করেন। আহতদের দ্রুত কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। গোটা এলাকায় এখনও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে স্বজন হারানোর হাহাকার।

    তবে কী ভাবে এই আগুন লাগল তা এখনও জানা যায়নি। লখনৌ পুলিশ ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আগুনের কারণ খতিয়ে দেখতে এবং নিরাপত্তা বিধি সঠিক ভাবে মানা হয়েছিল কিনা, সেই বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়ার পরে সেই মতো পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • Link to this news (এই সময়)