ঘরের কাজের অভিজ্ঞতা থেকেই রোজগারের দিশা। এ বারের বাজেটে বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। পরিবারের জন্য যাঁরা রান্না করেন অথবা যাঁদের রান্নার শখ রয়েছে। তাঁরা এ বার স্বপ্ন দেখতে পারেন নিজের ব্যবসার। বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, অবৈতনিক গার্হস্থ্য শ্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে বাড়ির রান্নাঘরকে ক্লাউড কিচেনে রূপান্তরিত করতে পারলে তা সরাসরি অর্থনীতিতে চাঙ্গা করবে। এমন মডেলে এই কাজের ভাবনা হচ্ছে যাতে, বাড়ির কোনও সদস্যের রান্নার দক্ষতাকে উৎপাদনশীলতায় পরিবর্তন করে আয়ের সংস্থান করবে। ন্যূনতম বিনিয়োগ এবং সাধারণ পরিকাঠামো ব্যবহার করে এই পদক্ষেপ করা সম্ভব।
এই লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার নতুন একটি ক্লাউড-কিচেন পলিসি নেবে বলে জানানো হয়েছে। একদিকে খাদ্যের মান বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি দেখা এবং অন্যদিকে ব্যবসা ও ডিজিটা মাধ্যমের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ সবই থাকতে এর মধ্যে। প্রয়োজনীয় ট্রেনিংয়ের সঙ্গেই মাইক্রো-ফিন্যান্সের দিকটিও ভাবা হবে।
সম্প্রতি একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, এক গৃহবধূ যে যে কাজ করেন এবং দায়িত্ব পালন করেন, তার জন্য অন্তত ৩০ হাজার টাকা বেতন হওয়া উচিত। দিনভর ঘরের মধ্যে নানা দায়িত্ব পালন করে কাটিয়ে দিন বহু নারী। দিনের কাজের বড় একটা সময় থাকে পরিবারের জন্য অন্তত তিন বেলার রান্না। এই প্রথম সরকারের তরফে এমন ভাবনা করা হচ্ছে, যাতে সেই নারী তাঁর রান্নার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে উপার্জনের দিশাও খুঁজে পান। অনেকেই মনে করেন, দিনভর বাড়ির কাজের পাশাপাশি নিজের কিছুটা রোজগার করার কথা। ক্লাউড কিচেন পলিসি নিয়ে আপাতত যা যা বলা হয়েছে, তাতে কেউ ইচ্ছে করলে রোজগার বা নিজের ব্যবসার স্বপ্ন দেখতেই পারে। তেমন হলে কোনও নারী যেমন আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন, তেমনই সেই পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।