• ১ লক্ষ পদে নিয়োগ, শিক্ষায় ৫০ হাজার, ঘোষণা রাজ্য বাজেটে
    এই সময় | ২৩ জুন ২০২৬
  • এই সময়: বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির ইস্তেহার তথা সংকল্পপত্রেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল আগামী পাঁচ বছরে রাজ্যে ১ কোটি মানুষের জন্য নতুন চাকরি ও স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্যের বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটেই সরকারি ক্ষেত্রে এক লক্ষ কর্মী নিয়োগের প্রস্তাব করা হলো। সোমবার অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের পেশ করা এই বাজেট কার্যকর হবে অগস্ট থেকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আগামী বাজেটে আরও চমক অপেক্ষা করছে। এই এক লক্ষ সরকারি চাকরির মধ্যে মধ্যে সর্বোচ্চ নিয়োগ শিক্ষা ক্ষেত্রে— স্কুল–কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী পদে নিয়োগ হবে ৫০ হাজার। অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, সরকারি চাকরিতে নতুন নিয়োগের ৩৩ শতাংশ পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে ১০ শতাংশ পদ ‘অগ্নিবীর’দের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। সরকারি চাকরিতে নিয়োগে স্বচ্ছতা রাখতে ইউপিএসসি-র ধাঁচে একটি কমিশনও গঠিত হবে রাজ্যে।

    নতুন দায়িত্ব নিয়ে প্রায় সব দপ্তরের মন্ত্রীই স্বীকার করেছেন, কাজের পথে মূল অন্তরায় হলো কর্মী সঙ্কট। তার ফলে দপ্তরের কাজ করতে গিয়ে পদে পদে অসুবিধা হচ্ছে। বাজেটে যে কর্মী নিয়োগের বার্তা থাকবে, তার আভাস আগেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের কোন বিভাগে কত কর্মী নিয়োগ করা হবে, এ দিনের বাজেটে তার খতিয়ান দিয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান যে, এক লক্ষের মধ্যে ২০ হাজার শূন্যপদ রয়েছে পুলিশ বিভাগে। ৫০ হাজার পদে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, অধ্যাপক নিয়োগ করা হবে। ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস (এএফআর)-এ এক হাজারটি পদে নিয়োগ হবে। অন্য সরকারি দপ্তরের বাকি প্রায় ২৯ হাজার শূন্য পদে নিয়োগ করা হবে।

    রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি এবং সরকার পোষিত প্রতিষ্ঠানে চাকরির পরীক্ষায় জনসাধারণের আস্থা ফেরাতে সরকার বিশেষ ভাবে উদ্যোগী হবে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, সরকারের নিয়োগকারী সংস্থাকে ইউপিএসসি-র ধাঁচে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনা হবে। এতে নিয়োগে স্বচ্ছতা বাড়বে, নিয়োগ ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।

    তৃণমূল জমানায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে বাতিল হয় প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক–শিক্ষাকর্মীর চাকরি। নতুন করে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই মতো এসএসসি মোট ৩৫,৬৫৪ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। এ ছাড়াও প্রাথমিকে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। কলেজ সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলিতেও বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা এসএসসি-র বিরুদ্ধে নিয়োগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ না মানার অভিযোগ তুলেছেন। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া আপাতত থমকে। চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের আশা, নতুন সরকার তাঁদের বঞ্চিত করবে না।

    সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ইতিমধ্যে ৫ বছর ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা হয়েছে। এ বার বাজেট প্রস্তাবে তা অন্তর্ভুক্ত করা হলো। বয়সের এই ঊর্ধ্বসীমায় ছাড়ের সুবিধা পরবর্তী দু’বছরের জন্য বহাল থাকবে বলে এ দিনের বাজেটে জানানো হয়েছে। বিধানসভা ভোটের প্রচারে এই বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসে সরকারি চাকরিতে বয়সের ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। সেই মতো বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে নবান্ন। রাজ্যের অর্থ দপ্তরের অডিট শাখার জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রুপ–এ চাকরিতে আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ৪১ বছর করা হয়েছে। তবে এ-ও বলা হয়েছে, গ্রুপ এ-র কোনও চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা আগে থেকেই ৪১ বছরের বেশি থাকলে, তাতে কোনও বদল হবে না। গ্রুপ–বি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ৪৪ এবং গ্রুপ–সি ও গ্রুপ–ডির ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ৪৫ বছর করা হয়েছে।

    বাজেটের পরে সাংবাদিক বৈঠকে অর্থমন্ত্রীকে পাশে বসিয়ে শুভেন্দু জানান, নিয়োগ সবে শুরু হলো। আগামী দিনে সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান বাড়বে। তিনি বলেন, ‘ইএফআর-এ দীর্ঘদিন নিয়োগ হয়নি। এই নিয়োগের ফলে পাহাড়ের ভাই-বোনেরা উপকৃত হবেন। তৃণমূল আমলের মতো চাকরি বিক্রি হবে না। সেই জন্য ইউপিএসসি-র আদলে একটি পৃথক প্রতিষ্ঠান তৈরি হবে।’ এই এক লক্ষ নিয়োগের বাইরে খুব শিগগিরই রাজ্যে ১৬ হাজার কনস্টেবলকে কাজে লাগানো হবে বলে জানান শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্য পুলিশে ১২ হাজার এবং কলকাতা পুলিশে ৪ হাজার কনস্টেবলের নিয়োগ চূড়ান্ত হয়ে রয়েছে। কেবল ওবিসি জটে তা আটকে আছে। আগের সরকার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। গ্রীষ্মের ছুটির পরে সুপ্রিম কোর্ট খুললে আমরা তা প্রত্যাহার করে নেব।’

  • Link to this news (এই সময়)