• জলপাইগুড়ি বাস দুর্ঘটনা: নাতিকে দেখা হল না ঠাকুমার, দুই পা ভেঙেছে ঠাকুরদার
    বর্তমান | ২৩ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: নাতির ডাকে ঠাকুরদা ও ঠাকুমার মন টেনেছিল ময়নাগুড়িতে। রবিবার সকালে শিলিগুড়ি থেকে দু’জনই ময়নাগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস! নাতিকে আর দেখতে পেলেন না ঠাকুমা। অপরদিকে, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জলপাইগুড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঠাকুরদা। শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহারগামী অভিশপ্ত সেই বাসে চেপেছিলেন মধু রায় ও তাঁর স্ত্রী যমুনা রায় (৪৫)। 

    প্রৌঢ় মধুবাবু স্ত্রী ও ছোটো ছেলে আদিত্য রায়ের সঙ্গে শিলিগুড়িতে থাকেন। সেখানে মধুবাবু রংয়ের কাজ করেন। আদিত্য একটি দোকানে কাজ করেন। ময়নাগুড়িতে চূড়াভাণ্ডারে গ্রামের বাড়ি। সেই বাড়িতে থাকেন বড়ো ছেলে দীপ, বউমা দীপালি ও ছোট নাতি। নাতির জন্য মাঝেমধ্যেই ময়নাগুড়ি আসতেন দম্পতি। 

    এক সপ্তাহের জন্য বড়ো ছেলের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন রায় দম্পতি। কিন্তু নাতিকে আর দেখা হল না যমুনাদেবীর। রবিবার উল্লাডাবরিতে দাঁড়িয়ে থাকা কন্টেনারে এনবিএসটিসি’র বাস ধাক্কা মারায় যমুনা রায়ের মৃত্যু হয়। আর মধুবাবু গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এখনও। 

    দীপালি রায় বলেন, শ্বশুরমশাইয়ের দুই পা ভেঙে গিয়েছে। কাঁধের হাঁড় ভেঙেছে। নাতিকে দেখার জন্য শ্বশুর-শাশুড়ি আমাদের বাড়িতে আসছিলেন। এদিকে, ছোটো ছেলে আদিত্য বলেন, মায়ের মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। বাসচালকের চূড়ান্ত গাফিলতির কারণেই ছ’জন প্রাণ হারিয়েছেন। ওর শাস্তি হওয়া উচিত। এদিকে, ধৃত বাসচালক সোমবারও ময়নাগুড়ি থানায় দাঁড়িয়ে দাবি করেন, স্টিয়ারিং লক হওয়ার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)