সংবাদদাতা, খড়্গপুর: তিনি নেই। তবুও তিনি আছেন! তিনি সবংয়ের সাতবারের বিধায়ক তথা তৃণমূল আমলের দাপুটে মন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে সবং থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। বিষয়টি অবশ্য প্রকাশ্যে আসে গত সপ্তাহে। আর তারপর থেকেই সবংয়ের বাড়ি থেকে উধাও হয়ে গিয়েছেন মানসবাবু। কোথায় তিনি? কেউই বলতে পারছেন না। কেউ বলছেন, দিল্লিতে। আবার কেউ বলছেন, কলকাতায়। এদিকে তাঁর জামিনের আবেদনেরও শুনানি হয়নি মেদিনীপুর জেলা আদালতে। সোমবার বিকেলে ঠিক এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। স্বভাবতই মানসবাবুকে নিয়ে অবশ্য জল্পনা থামছে না জেলার রাজনৈতিক মহলে। জেলার বিজেপি ও কংগ্রেসের নেতারা নানা দাবি করেছেন মানসবাবুকে নিয়ে।
গত ১০ জুন মানসবাবু সহ তিনজনের বিরুদ্ধে সবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরই অনুগামী হিসেবে পরিচিত, বিষ্ণুপুর অঞ্চলের সক্রিয় তৃণমূল কর্মী বিকাশকুমার টুং। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে তাঁর স্ত্রী মঞ্জু সাহু টুংকে সেচদপ্তরের তেমাথানির ইরিগেশন গেস্ট হাউসে চাকরি দেওয়ার নাম করে পাঁচ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। মার্চ মাসে চাকরিতে যোগদান করলেও, নতুন সরকার আসার পর মে মাসে ছাঁটাই করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক মানস ভুঁইয়া ছাড়াও সবং ব্লক তৃণমূলের বিদায়ী সভাপতি আবু কালাম বক্স এবং ভোলানাথ দে নামে তিনজনের বিরুদ্ধে বিএনএসের ৩১৮(৪) এবং ৬১ (২) ধারায় মামলা দায়ের হয়। দু’টি ধারাই জামিন অযোগ্য। মানসবাবু মেদিনীপুর জেলা আদালতে জামিনের আবেদনও জানিয়েছিলেন। তবে, সোমবার পর্যন্ত মামলার শুনানি হয়নি বলেই জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। এই পরিস্থিতিতেই গত ১৮ জুন থেকে সবংয়ের বাড়িত নেই মানসবাবু। কোথায় গিয়েছেন? বলতে পারছেন না কেউই। ফোনেও সাড়া মিলছে না। তবে, রবিবার সন্ধ্যায় এসএমএসের জবাব দিয়েছেন মানসবাবু। তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কাজে বাইরে আছেন। তবে ঠিক কোথায়, তা জানাননি প্রাক্তন সেচমন্ত্রী।
বিজেপির জেলা নেতাদের একাংশের দাবি, দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই নাকি মানসবাবু কলকাতা থেকে দিল্লি দৌড়াদৌড়ি করছেন। সবংয়ের বর্তমান বিধায়ক অমল পন্ডা একসময় মানসবাবুরই ছায়াসঙ্গী ছিলেন। তিনি অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি।