• মেট্রো রেল জুড়বে আসানসোল ও দুর্গাপুরকে, বাজেটে প্রস্তাব হতেই খুশির জোয়ারে বাসিন্দারা
    বর্তমান | ২৩ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কলকাতার পর এবার ‘মেট্রো’ সিটির তকমা পেতে চলেছে আসানসোল-দুর্গাপুর। রাজ্যে বাজেটে মেট্রো রেল চালানোর ঘোষণা হতেই খুশিতে ভাসল শিল্পাঞ্চলবাসী। দক্ষিণবঙ্গের দু‌ই বৃহৎ শহর ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন দু’টি শহরের মধ্যে যাতায়াত করেন। মেট্রো হলে নিত্যযাত্রীদের হয়রানি কমবে। সেই আশায় রা঩঩জ্যের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই শহরের মানুষ। মেট্রো পরিষেবা চালু করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্য‌বসায়ীরাও। 

    বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই কলকাতার পাশাপাশি আরও কয়েকটি শহরে মেট্রো চালানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য বাজেটে সেই পরিকল্পনা স্পষ্ট হয়ে গেল। উত্তরবঙ্গে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি ও দক্ষিণবঙ্গে আসানসোল-দুর্গাপুরের মধ্যে সেই মেট্রো চালানো জন্য ‘টেকনো ইকোনমি সার্ভে’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। পশ্চিম বর্ধমান জেলার পানাগড় থেকে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে পর পর রয়েছে দুর্গাপুর, অণ্ডাল, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া হয়ে আসানসোল। আসানসোলের পর আসানসোল পুর এলাকার মধ্যেই রয়েছে নিয়ামতপুর, কুলটি হয়ে বরাকর। প্রতিটি এলাকায় অতিব জনবহুল। এই শহর ও শহরতলিগুলিতে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এক প্রান্ত থেকে অন্য‌ প্রান্ত যাতায়াত করেন বাসে, গাড়িতে বা বাইকে। ট্রেনেও বহু মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু সময় মতো ট্রেন না থাকায় বেশিভাগ যাত্রীর ভরসা সড়ক পথই। যাতায়াতে হামেশাই বিড়ম্বনায় পড়েন নিত্যযাত্রীরা। যানজটে বহু সময়ে কর্মস্থলে সময় মতো পৌঁছাতে পারেন না তাঁরা। দীর্ঘদিন বাস, অটো, টোটোয় যাতায়াত করে নিত্যযাত্রীদের শরীরের অবস্থাও তথৈবচ। এই অবস্থায় মেট্রোর স্বপ্ন তাঁদের কাছে হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো। দুর্গাপুর থেকে নিয়ামতপুর ১৫ বছর যাতায়াত করছেন সোমা মণ্ডল। দু’টি বাস পাল্টে এতবছর যাতায়াত করায় শারীরিক ভাবে নানা সমস্যায় পড়েছেন তিনি। তিনি বলেন, কলকাতায় গিয়ে দেখেছি মেট্রোয় যাতায়াত করতে কোনো ক্লান্তি অনুভূত হয় না। এটা বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। চিকিৎসক রমন গঙ্গোপাধ্যয় বলেন, বাস, অটোয় যাতায়াতের সঙ্গে মেট্রোয় যাতায়াতের কোনো তুলনাই হয় না। নিত্যযাত্রীরা প্রায়ই নানা ব্যথার সমস্যা নিয়ে আসেন। মেট্রো চালু হলে সেই সমস্যা থাকবে না। অনেকের মতে, এই এলাকা আর্থিক ভাবে যথেষ্ট স্বচ্ছল। শিল্পকেন্দ্রিক এলাকা। তাই মেট্রো পরিষেবা চালু করলে দেশের বণিক মহলের কাছেও একটি ভালো বার্তা যাবে। সাউথ বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শচীন রায় বলেন, এখানে বিমান বন্দর রয়েছে, মেট্রো হলে এলাকার পরিবহণ ব্যবস্থা অন্য মাত্রায় পৌঁছাবে। বিভিন্ন বৃহৎ শহরের মতো বিমান থেকে নেমে সহজেই মেট্রো ধরে শিল্পাঞ্চলে নানা প্রান্তে যাওয়া যাবে। এই পরিকাঠামো বিকাশ শিল্প সম্ভবনাও বাড়াবে। 

    এই মেট্রো প্রজেক্টের পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমানে মেডিকেল কলেজ করার কথাও ঘোষণা হয়েছে। যদিও কিছু অপূর্ণতা থেকে গিয়েছে। যেমন এলাকারবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও বার্নপুরে দামোদরের উপর নতুন সেতু নির্মাণের ঘোষণা হয়নি। পুরুলিয়ায় নতুন বিমান বন্দরের ঘোষণা হলেও বার্নপুরে তৈরি থাকা বিমান বন্দর চালু করা নিয়ে কোনো ঘোষণা করা হয়নি। এছাড়াও ধর্মীয় স্থানের টুরিজম প্রজেক্টে মা কল্যাণেশ্বরীর নাম থাকলেও অনেকের দাবি এতে যুক্ত করা হোক মা ঘাঘরবুড়ি মন্দির। বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছেন আসানসোল চেম্বার অব কর্মাসের সাধারণ সম্পাদক শম্ভুনাথ ঝাঁ। আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, মানুষের সব ইচ্ছাই বিজেপি সরকার ধীরে ধীরে পূরণ করবে।
  • Link to this news (বর্তমান)