আরামবাগকে পৃথক জেলা, কামারপুকুরকে পুরসভা ঘোষণা, খুশির জোয়ার
বর্তমান | ২৩ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আরামবাগকে জেলা ও কামারপুকুরকে পুরসভা ঘোষণার দাবি দীর্ঘদিনের। অন্যদিকে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও হুগলি জেলা ভেঙে আরামবাগকে জেলা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। নির্বাচনী ইস্তাহারে তা প্রকাশ করা হয়েছিল। সোমবার বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটেই আরামবাগবাসীর সেই দাবি পূরণ হল। তাতেই খুশির হাওয়া সমগ্র আরামবাগ মহকুমাজুড়ে। বাজেটে সেই ঘোষণার পরই আরামবাগে লাড্ডু বিলি করেন বিজেপির নেতাকর্মীরা। কামারপুকুরেও গেরুয়া আবির মেখে উচ্ছ্বাসে মাতেন দলীয় কর্মীরা। বিকেলে রাজ্য সরকার ও আরামবাগ মহকুমার চার বিধায়ককে অভিনন্দন জানিয়ে মিছিলও করে ‘আরামবাগ জেলা চাই পরিষদ’। আরামবাগ শহরের বাসুদেবপুর মোড় থেকে ওই মিছিল শহর পরিক্রমা করে। তারপর পথচলতি মানুষকে মিষ্টিমুখও করানো হয়। এদিন ওই পদযাত্রায় অংশ নেন আরামবাগের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টরা। অন্যদিকে, বিকেলে কামারপুকুরকে পুরসভা ঘোষণার জন্য বিধায়ককে ধন্যবাদ জানিয়ে মিছিল হয়। তাতে অংশ নেন গোঘাটের বিজেপি বিধায়ক সহ অনেকেই।
গোঘাটের বিজেপি বিধায়ক প্রশান্ত দিগার বলেন, ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের জন্মস্থান আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র। প্রতিদিন বহু ভক্ত এখানে আসেন। অনেকে থাকেনও। কিন্তু সেভাবে তাঁদের আতিথেয়তা করা যায় না। পঞ্চায়েত এলাকা হওয়ায় বাসিন্দারাও সব পরিষেবা পান না। তাই কামারপুকুরবাসীর কথা ভেবে পুরসভা করতে প্রস্তাব রাজ্য সরকারকে পাঠিয়েছিলাম। কথা হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও। কামারপুকুরবাসীর আবেগকে সম্মান দেওয়ার জন্য আমরাও মুখ্যমন্ত্রী ও সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
এদিন রাজ্য সরকারকে বাজেটের পাশাপাশি জেলা ও পুরসভা ঘোষণা করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন মহকুমার অন্যান্য বিধায়করাও। উল্লেখ্য, আরামবাগ মহকুমার গোঘাট, খানাকুলের প্রান্তিক এলাকা থেকে জেলা সদর চুঁচুড়ায় দিন কাবার হয়ে যায়। হয়রানির মুখে পড়েন বাসিন্দারা। তাই আরামবাগকে পৃথক জেলা ঘোষণার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। কিন্তু বিগত সরকারগুলি সেই দাবিকে মান্যতা দেয়নি। নতুন বিজেপি সরকারের কাছে প্রত্যাশা রেখে একাধিক সংগঠনের তরফে বিধায়কদের কাছে জেলার দাবিকে নিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এদিন সরকারের প্রথম বাজেটেই তার ঘোষণা হওয়ায় খুশিতে ফেটে পড়েন অনেকে।
‘আরামবাগ জেলা চাই পরিষদ’-এর মুখপাত্র সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা অনেকদিন ধরেই আরামবাগকে জেলা ঘোষণার আর্জি নিয়ে আন্দোলন করে আসছি। আজ সেই আন্দোলন সফল হল। আগামী দিনে আরামবাগ জেলার রূপরেখা ঠিক করতে আমরা প্রশাসনের সঙ্গেও আলোচনা করব। কামারপুকুরের বাসিন্দা গৌরীপদ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ঠাকুরের ইচ্ছেতেই সব হয়েছে। কামারপুকুরকে পুরসভা করার দাবি অনেকদিনের। সরকারের ঘোষণায় এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হবে। নানা সমস্যারও সমাধান হবে আশা করি। তাই এই ঘোষণায় সবাই খুশি। বাজেটের এই ঘোষণা নিয়ে কংগ্রেসের আরামবাগ ব্লক সভাপতি রবীন্দ্রনাথ পাল বলেন, জেলা ও পুরসভা ঘোষণা হলেও কতদিনে তা কার্যকর হয় সেটিও দেখার। তার সঙ্গে আরামবাগে সেতু, বন্যা মোকাবিলা প্রভৃতি বিষয়ে কোনো ঘোষণা না হওয়ায় হতাশাও রয়েছে। আরামবাগের তৃণমূল নেতা পলাশ রায় বলেন, জেলা ও পুরসভা ঘোষণায় দাবি পূরণ হলেও সেতু, বন্যা, কৃষি নিয়ে কোনো দিশা পাওয়া গেল না। নিজস্ব চিত্র