• জমি আদৌ রেলের কি না, তা না দেখে উচ্ছেদ নয়, আশ্বাস
    বর্তমান | ২৩ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: আজ, অর্থাৎ মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে রেলের দেওয়া ১০ দিনের সময়সীমা। তার আগের দিন অর্থাৎ সোমবার ‘রামপুরহাট ফুটপাত উচ্ছেদ বিরোধী যৌথ মঞ্চ’ রেলের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে ডেপুটেশন দিল। দীর্ঘ আলোচনার পর যথাযথ মাপজোক না করে উচ্ছেদ চালানো হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে দাবি মঞ্চের। যা ব্যবসায়ীদের সাময়িক স্বস্তি দিল। রামপুরহাট শহরের প্রায় অর্ধেক এলাকাই রেলের অধীন। বহু পরিবার রেলের জমি বা সীমানা পাঁচিল সংলগ্ন এলাকায় ছোটোখাটো দোকান দিয়ে জীবনধারণ করেন। তার ওপরই তাঁদের সংসার ও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা নির্ভরশীল। প্রায় দু’ বছর আগে রেল চাঁদমারি রেলগেট থেকে ছ’ফুঁকো পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালায়। কিন্তু বিকল্প আয়ের পথ না থাকায় হকাররা বাধ্য হয়ে আবার সেখানেই অস্থায়ীভাবে ব্যবসা শুরু করেন। গত ১৩ জুন রেল পুলিশ ব্যবসায়ীদের ১০ দিনের মধ্যে জায়গা খালি করার নোটিস দেয়। ফলে ব্যবসায়ীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। 

    সম্প্রতি একটি মামলার পরিপেক্ষিতে হাই কোর্ট জানায়, জুন মাস পর্যন্ত কোনো হকারকে উচ্ছেদ করা যাবে না এবং রেলের দেওয়া আগের নোটিসটি আপাতত কার্যকর করা যাবে না। কিছু ক্ষেত্রে উচ্ছেদ করার আগে হকারদের বিকল্প জায়গার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। জায়গাগুলো আদৌ রেলের এক্তিয়ারভুক্ত কি না, তা নিয়ে আদালত প্রশ্ন তোলে। এদিন এই বিষয়গুলি নিয়ে রেলের সিনিয়র অ্যাসিট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায় ফুটপাত উচ্ছেদ বিরোধী যৌথ মঞ্চের সদস্যরা। পরে মঞ্চের কয়েকজন সদস্য সিনিয়র অ্যাসিট্যান্ট ইইঞ্জনিয়ার প্রকাশ কুমারের সঙ্গে দেখা করে ডেপুটেশন দেয়। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর বেরিয়ে আসার পথে মঞ্চের অন্যতম নেতা সঞ্জীব মল্লিক বলেন, রেল যেখানে ইতিমধ্যেই সীমানা পাঁচিল তুলে দিয়েছে, তার বাইরে পুরসভার নিকাশি নালা এবং পিডব্লুডির রাস্তা রয়েছে। সেই রাস্তার ধারের জায়গা রেল কীভাবে নিজেদের বলে দাবি করে? ব্যবসায়ীরা রেল ক্যাম্পাসের বাইরে রয়েছেন। এর আগে উচ্ছেদের সময় পুরসভার পক্ষ থেকে জায়গা মাপজোক করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল। যার চূড়ান্ত রফা এখনও হয়নি। সেই বিষয়টিই তুলে ধরা হয়। তাঁর দাবি, প্রকাশবাবু বলেছেন, মাপজোকের আগে উচ্ছেদ অভিযান চলবে না। যদিও এ ব্যাপারে প্রকাশবাবুকে ফোন করা হলেও তিনি কিছু বলতে চাননি। তবে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, রেল ও রাজ্য প্রশাসনের যৌথ জমি জরিপের পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, জায়গাটি আসলে কার এক্তিয়ারে পড়ে। তারপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবমিলিয়ে হাই কোর্টের হস্তক্ষেপ এবং যৌথ মঞ্চের আন্দোলনের জেরে রামপুরহাটের হকাররা সাময়িক স্বস্তি পেলেন। 
  • Link to this news (বর্তমান)