সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: সোমবার তারকেশ্বর মন্দির পরিদর্শন করে শ্রাবণী মেলা নিয়ে বৈঠক করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বিকেল পাঁচটা নাগাদ তিনি তারকেশ্বর মন্দিরে আসেন। ঐতিহ্যবাহী কুমকুমি পুকুরের পাশে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। মন্দির এলাকা পরিদর্শনের সময় পুরসভার কর্মীদের পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি আরও বলেন, তারকেশ্বর মন্দিরে যাওয়ার পথে বা শহরে দোকানের বাইরে কোনোরকম চৌকি বা প্লাস্টিক পেতে রাস্তা ঘিরে রাখা যাবে না। প্রশাসনকে ব্যবসায়ীদের বেআইনিভাবে রাস্তা দখল করার বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তারকেশ্বর টুরিস্ট লজে চাঁপদানি, সিঙ্গুর, হরিপাল ও তারকেশ্বর বিধানসভার বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মন্ত্রী। বৈঠকে বিধায়ক ছাড়াও হুগলি জেলা পুলিশ, রেলদপ্তর, দমকল বিভাগ, তারকেশ্বর পুরসভা সহ প্রশাসনের সমস্ত দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শ্রাবণী মেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ এখানে আসেন। এবারে তাঁদের অভিজ্ঞতা যেন সুন্দর হয়, তা মুখ্যমন্ত্রী বলে দিয়েছেন। সেটা সফল করতে এই মিটিং। যাঁরা আসবেন, তাঁদের জলের ব্যবস্থা, বিশ্রামাগার, রাস্তাঘাট, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
দুধপুকুর সহ অন্যান্য পুকুরগুলি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, মন্দিরের ভিতরে যেন জল পড়ে পিছল না হয়, তার জন্য ম্যাট ব্যবহার করা হবে। শহরকে লাইট দিয়ে সাজানো হবে। দেওয়ালে শিব পূরণের কথা ছবি এঁকে মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে। যে জায়গায় জল ঢালা হয় সে জায়গাটি ছোটো। মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জায়গাটি বাড়ানো যায় কি না দেখা হচ্ছে। মানুষের যাতে সুবিধা হয় সেগুলি দেখা হচ্ছে। আজকে আমি দেখলাম, অনেকগুলি দোকান অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। এগুলি সম্পূর্ণ অনৈতিক কাজ হচ্ছে। দোকানের সামনে চৌকি বা বেঞ্চ লাগিয়ে দোকান বাড়ানোর চেষ্টা করবেন না। ৩০-৪০ কিলোমিটারে হেঁটে তীর্থযাত্রীরা আসেন। কষ্ট হয় তবে তাঁদের সবরকম সুবিধা দেওয়ার আমরা চেষ্টা করছি। মঙ্গলবার সকালে আরও একটি বৈঠক হবে, সেখানে আমি থাকব না আধিকারিকরা এই বিষয়ে আলোচনা করবেন। বৈদ্যবাটি থেকে তারকেশ্বর আসার রাস্তা মেরামত হবে। রাস্তার দুপাশে পর্যাপ্ত শৌচালয় ও পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকবে। ৩৬৫ দিন আমাদের শহর, রাস্তা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। উল্লেখ্য, ১৮ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে মেলা।