• চিংড়িঘাটা থেকে নিউটাউন এলিভেটেড করিডরের প্রস্তাব, বরাদ্দ ৯০০ কোটি টাকা
    বর্তমান | ২৩ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চিংড়িঘাটায় ই এম বাইপাসে যানজট নিত্যদিনের সমস্যা। সল্টলেক পাঁচ নম্বর সেক্টর এবং নিউটাউন যাওয়ার পথে সকালে এবং বিকেল থেকে সন্ধ্যা যানজট মারাত্মক চেহারা নেয়। বিশ্ববাংলা সরণির উপর নিক্কো পার্ক থেকে চিংড়িঘাটা মোড় পর্যন্ত জ্যামে আটকে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে যানবাহন।

    এই সমস্যা সমাধানে নয়া সরকার চিংড়িঘাটা-নিউটাউন এলিভেটেড করিডর তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। প্রায় সাড়ে ৭ কিমি রাস্তাজুড়ে এই করিডর তৈরির প্রস্তাব পেশ হয়েছে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে। এই কাজে বরাদ্দ করা হয়েছে ৯০০ কোটি টাকা। 

    সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সেখানে তিনি জানান, প্রস্তাবিত করিডরটি ই এম বাইপাস ও সল্টলেক সেক্টর ফাইভকে যুক্ত করবে। সেখানে থাকবে পৃথক র‌্যাম্প। রাজ্য সরকারের দাবি, বর্তমান অবস্থায় মধ্য ও পূর্ব কলকাতার সঙ্গে সড়কপথে নিউটাউনের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। হাল আমলে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো চালু হয়েছে। কিন্তু তা সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত চলছে। মেট্রো চলাচল সত্ত্বেও সড়কপথের যানজট সমস্যা দূর হচ্ছে না। মনে করা হচ্ছে, এলিভেটেড করিডরটি চিংড়িঘাটা-নিউটাউন যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মসৃণ করবে। যাতায়াতের সময় অনেক কমিয়ে আনবে।

    মানুষের অভিযোগ, সকাল ন’টার পর অফিস টাইমে ই এম বাইপাসে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করে। ইদানীং সেক্টর ফাইভ, নিউটাউনগামী অ্যাপ ক্যাব, অ্যাপ বাইক ও শাটল বাসের সংখ্যা বেড়েছে। দক্ষিণ কলকাতা, দক্ষিণ শহরতলি, পূর্ব ও মধ্য কলকাতা থেকে আসা সমস্ত গাড়ির চাপ এসে পড়ছে চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারের উপর। তার জেরে বাইপাসের উপর যানবাহনের গতি যাচ্ছে অনেক কমে। সকালে চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারের যানজট কার্যত পৌঁছে যায় মেট্রোপলিটন ক্রসিং পর্যন্ত। এই সময় সেক্টর ফাইভ, টেকনোপলিস হয়ে সাড়ে ৭ কিমি পেরিয়ে নিউটাউন পৌঁছাতে সময় লাগে কমকরে ৪০ মিনিট। ফেরার সময় আরও বিপাকে পড়তে হয় মানুষকে। সন্ধ্যায় অফিস ছুটির পর বাইপাসমুখী যান চলাচল মন্থর হতে শুরু করে। নিক্কো পার্কের পর প্রতি ৩০-৪০ মিটার অন্তর যানজটের চাপে বন্ধ করতে হয় গাড়ি, বাইকের ইঞ্জিন। বৃষ্টি হলে অবস্থা আরও সঙ্গিন হয়ে পড়ে। কার্যত স্থির হয়ে থাকে যানবাহন। নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, সন্ধ্যাবেলায় সল্টলেক-নিক্কো পার্কের দিক থেকে বাইপাসমুখী যান চলাচল সমস্যার আরও একটি বড়ো কারণ হল পুলিশ নির্ধারিত স্টপেজ টাইম। বাস, গাড়ি ও বাইকচালকদের দাবি, এই সময় মূল বাইপাসের উপর সরাসরি দক্ষিণমুখী যান চলাচলের জন্য বেশি সময় দেওয়া হয়। কিন্তু সল্টলেক থেকে বাইপাসে ওঠার জন্য যানবাহনগুলিকে দেওয়া হয় অনেক কম সময়।

    কলকাতায় যান চলাচল দ্রুত করার স্বার্থে বাজেটে এলিভেটেড করিডরের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। সাধারণ মানুষের বক্তব্য, ‘এই উদ্যোগের ফলে মানুষের ভোগান্তি কমবে। যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবিকে অবশেষে স্বীকৃতি দিল সরকার।’
  • Link to this news (বর্তমান)