রাজ্যের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে কল্যাণীতে
বর্তমান | ২৩ জুন ২০২৬
সংবাদদাতা, কল্যাণী: দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কল্যাণীতে রাজ্যের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৈরির সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হল। রাজ্যের নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে দ্বিতীয় বিমানবন্দর নির্মাণের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে কল্যাণীতে একটি ‘গ্রিন ফিল্ড’ বিমানবন্দর গড়ে তুলতে এক থেকে দেড় হাজার একর জমি চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
এই ঘোষণার পর থেকেই কল্যাণী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিমানবন্দরের প্রকল্প ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী তথা বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরও কল্যাণীতে বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। দিন ১৫ আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘আগেও বলেছি, এখনও গ্যারান্টি সহকারে বলছি, কল্যাণীতে বিমানবন্দর হচ্ছে।’ সূত্রের খবর, কলকাতা বিমানবন্দরে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকায় বিকল্প বিমানবন্দর তৈরির প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। পাশাপাশি, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেও কল্যাণীকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘এভিয়েশন হাব’ হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এর আগেও কল্যাণীতে বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তাব সামনে এসেছিল। তবে নানা কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগয়নি। তবে এবার প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্যতম বড়ো সুবিধা হিসাবে দেখা হচ্ছে উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে। সম্প্রতি প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিগন্যাল-মুক্ত কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ায় কলকাতা বিমানবন্দর থেকে কল্যাণীতে পৌঁছাতে সময় লাগছে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট। ফলে নতুন বিমানবন্দর চালু হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে তা বিশেষ সহায়ক হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এখনও প্রকল্পের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ না করা হলেও বাজেট ঘোষণার পর কল্যাণীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা অনেকটাই জোরালো হল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক ডিন রানা ঘোষ বলছিলেন, ‘কল্যাণীতে বিমানবন্দর হলে এই অঞ্চল শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্পের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। শিক্ষার্থীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিকভাবে কল্যাণীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’ চিকিৎসক নয়ন সরকার বলেন, ‘বিমানবন্দর হলে কল্যাণীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সহজ হবে। এইমসে চিকিৎসা করাতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে মানুষ এখানে সহজে আসতে পারবে।’