ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দুই তৃণমূলের, সমালোচনা সিপিএম-কংয়ের
বর্তমান | ২৩ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হল সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সর্বাঙ্গীন উন্নয়ন। কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সরকারি কর্মচারী, মহিলা, পড়ুয়াদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হয়েছে। স্বভাবতই বাজেট নিয়ে উচ্ছ্বসিত বিজেপি শিবির। তবে সমালোচনার রাস্তাতেই গিয়েছে বিরোধীরা। বাজেট নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘পরিকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে সুস্পষ্ট বার্তা বাজেটে পাওয়া যায়নি। কত টাকা পরিকাঠামো নির্মাণে খরচ, তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই। বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট আরও খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।’ সেই সঙ্গে ঋতব্রত উল্লেখ করেছেন, জেলার সংখ্যা বাড়ছে, আরও বৃদ্ধি পেলে ভালো হত। কিন্তু বিমানবন্দরের পরিকাঠামো নির্মাণে মাত্র ১০ কোটি বরাদ্দ খুবই কম। এছাড়া, ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ বেসরকারি হাতে চলে না যায়, সেদিকে সরকারকে নজর রাখতে হবে। নিয়ন্ত্রণ যেন সরকারের হাতে থাকে। পাশাপাশি মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান বলেন, ‘বিজেপি সবসময় সব কা সাথ-সব কা বিকাশের কথা বলে। কিন্তু সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা, তাঁদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।’
তবে এই বাজেটের তীব্র সমালোচনার রাস্তায় হাঁটেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। তাদের আরও সময় চাই। রাজ্য বাজেটে অনেক ধরনের কথা বলা হয়েছে। সেগুলি বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নজর রাখব, সরকার বাজেটে যে কথাগুলি বলেছে, সেটা তারা পূরণ করতে পারছে কি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনা করে গিয়েছে কেন্দ্রের সরকার। বাংলায় বিজেপি সরকার আসার পর কেন্দ্র ঠিকমতো আর্থিক সহযোগিতা করছে কি না, এখন এটাও দেখার।’ সেই সঙ্গে কুণাল স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের উল্লেখ না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প সবাই পাবে না।
বাজেটের সমালোচনা করেছেন সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাজেটে কার্যকরী বিষয়ের উল্লেখ নেই। আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। জনমোহিনী মুখোশোর আড়ালে অন্তঃসারশূন্য বাজেট। এই বাজেটে কোনো রোড ম্যাপ নেই। কেন্দ্রের প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বিজেরি সরকার। ভাতা বাড়ানো হলেও সংখ্যালঘু উন্নয়নে বরাদ্দ কমানো হয়েছে।’ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেছেন, ‘এই বাজেট বড়ো বড়ো ঘোষণার মাধ্যমে প্রচারের আলো কুড়োনোর চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু মৌলিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ এই বাজেট। বাংলার ভবিষ্যতের কোনো রূপরেখা নেই এই বাজেটে।’
রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিত্ সরকার বলেন, ‘গত পঞ্চাশ বছরে এরকম বাজেট পেশ হয়নি। সমাজের বিভিন্ন স্তরকে স্পর্শ করেছে এই বাজেট। মানুষের আর্থিক উন্নয়নের সব সীমা ছাড়িয়ে নতুন দিশাও দেখিয়েছে এবারের বাজেট।’ বিজেপি অফিসে দেবজিৎবাবুর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির ইকোনমিক সেলের কনভেনর ধনপতরাম আগরওয়াল।