• উন্নয়ন খাতে ৮৬ হাজার কোটি, সাজছে পাহাড় থেকে সুন্দরবন
    বর্তমান | ২৩ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রথম বাজেটেই পরিকাঠামো খাতে বরাদ্দ নজরে পড়ার মতো বাড়ল। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের সংশোধিত বাজেটের হিসাব অনুযায়ী, এই খাতে ব্যয় বরাদ্দ ছিল ৬০ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। তবে সরকারে এসেই কর্মসংস্থান এবং আর্থিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতে ৮৬ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বাজেট প্রস্তাব পেশ করার সময় পাহাড় থেকে সুন্দরবন সর্বত্র একাধিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ঘোষণা করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এই তালিকায় কল্যাণীর কাছে দ্বিতীয় কলকাতা বিমানবন্দর ছাড়া আরও চারটি বিমানবন্দর গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উঠে এসেছে দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর ছাড়াও দুর্গাপুর-আসানসোল এবং উত্তরবঙ্গে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি মেট্রো প্রকল্পের প্রস্তাব। এখানেই শেষ নয়, দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা কলকাতার ই এম বাইপাসের চিংড়িঘাটা-নিউটাউন এলিভেটেড করিডরের জন্য ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবও পেশ করল রাজ্য। 

    বাজেটের আগের দিনেই মুখ্যমন্ত্রীকে ৬০ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার প্রতিফলন দেখা গেল রাজ্যের বাজেটে। কারণ, এবারের বাজেটে নানা প্রকল্প খাতের কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ২২ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৭১ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। একইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে কেন্দ্রের স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্স টু স্টেটস ফর ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ হাজার কোটির আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বপনবাবু। এই অর্থ মূলত বড়ো মূলধনী প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে। এদিন বাজেটে ১,২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কালনা-শান্তিপুর সংযোগকারী ‘ভাগীরথী মেজর ব্রিজ’, ১,৮৫০ কোটি টাকায় ডানকুনি-মগরা ৩৫ কিমি রোড করিডর, ৮০০ কোটি টাকায় ময়ূরাক্ষী নদীর উপর চার লেনের নতুন সেতু এবং ১০০ কোটিতে  নন্দীগ্রাম-হলদিয়া সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

    আবার সিটি ইকনমিক রিজিয়ন স্কিমের মাধ্যমে টিয়ার ২ এবং ৩ শহরগুলিকে উন্নয়নের নতুন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ‘পূর্বোদয়’ প্রকল্পের অধীন পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশে ঢুকে পড়ল পশ্চিমবঙ্গও। পরিবহণ ও জলপথ উন্নয়নে সুন্দরবনের জন্য ১০০ কোটি বরাদ্দ করে নতুন পন্টুন জেটি, সৌরচালিত নৌকা, শালিমার-গার্ডেনরিচ রো-রো টার্মিনাল, গঙ্গা রিভারফ্রন্ট সৌন্দর্যায়ন, এবং ছোটো বন্দরগুলির উন্নয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এদিনের বাজেটে। উড়ান প্রকল্পের অধীন বিমান যোগাযোগে নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসাবে পুরুলিয়া, বালুরঘাট ও মালদহে নতুন বিমানবন্দর তৈরি ছাড়াও কোচবিহার বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কল্যাণীতে গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরের জন্য ১,০০০ থেকে ১,৫০০ একর জমি চিহ্নিত করার প্রস্তাবও রয়েছে বাজেটে। আবার, রাজ্যের বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে সাঁওতালডিহিতে দু’টি ৮০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ এবং বক্রেশ্বর বাঁধে ২,০০০ কোটির ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য। এছাড়া ধাপায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র এবং প্রায় ৭০টি স্থানে রেল ওভারব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব পেশ হয়েছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)